বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে এক নারী ও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ জুন) বিকেল ৪টার দিকে ডাকবাংলোর পাশাপাশি দুটি কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহত নারী স্মৃতি রানী, তিনি বরগুনা শহরের কালিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা এবং দুলাল রায়ের স্ত্রী। স্মৃতি রানী জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে খণ্ডকালীন ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত না হলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা স্মৃতি রানীর সন্তান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে ডাকবাংলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করতে গিয়ে পাশাপাশি দুটি কক্ষে মরদেহ দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে বরগুনা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, নারী ও দুই শিশুকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে কীভাবে এবং কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ইব্রাহিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আলীম বলেন, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। উদ্ধার করা তিনটি মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে।
এ ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনাসহ সব দিক খতিয়ে দেখছে।
সময়ের আলো/জোই