পাবনার পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দি কিশোরীর পরিচয় মিলেছে। নিহত রিয়া খাতুন (১৫) পাবনা সদর উপজেলার মাওলানা কাসিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ও রিয়ার প্রেমিক মো. নাঈমসহ তার দুই সহযোগীকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে মরদেহ গুমের চেষ্টায় ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) বিকেলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, পাবনা সদর উপজেলার পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের বাসিন্দা নাঈমের সঙ্গে স্কুলছাত্রী রিয়ার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই-বোন। মঙ্গলবার (২ জুন)বেলা ১১টার দিকে রিয়া নাঈমের বাসায় বেড়াতে যায়। সেখানে অবস্থানকালে একপর্যায়ে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে নাঈম ধারালো ছুরি দেখিয়ে রিয়াকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করে। রিয়া এতে ভয় না পেয়ে উল্টো প্রতিহত করতে গেলে নাঈম তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে নাঈম তার দুই সহযোগী ইয়াসিন ও তুহিনকে ডেকে আনে। এরপর তারা রিয়ার মরদেহ বস্তাবন্দি করে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে তুলে পদ্মা নদীর তীরে নিয়ে ফেলে আসে।
ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পুলিশের একাধিক ইউনিট ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তথ্যপ্রযুক্তি ও সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি নাঈম ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে।
আটকরা হলেন, মো. নাঈম, পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের বাসিন্দা (মূল অভিযুক্ত), মো. ইয়াসিন শেখ, মো. তুহিন প্রামাণিক (১৭)।
রিয়া খাতুন একই গ্রামের মো. আজিজুল প্রামাণিক ও মমতা খাতুনের মেয়ে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মরদেহ পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের নিখুঁত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় পাবনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
সময়ের আলো/জোই