বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদরদফতর পেন্টাগন। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) এবিসি নিউজের প্রতিবেদনের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের নথিপত্র অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের গড় দাম গত অক্টোবরের প্রতি ব্যারেলে ১৫৪ দশমিক ১৪ ডলার থেকে বেড়ে এপ্রিলে ১৯৫ দশমিক ৭২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে এই খরচ বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানের মধ্যে গ্যাসোলিন ও জেট ফুয়েলসহ (উড়োজাহাজের জ্বালানি) সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত প্রায় দুই ডজন বা ২৪ ধরনের জ্বালানি তেলের গড় খরচ হিসাব করা হয়েছে।
চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। এর ফলে চলতি বছরে যুদ্ধবিমান, ট্যাংক এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম পরিচালনার জন্য পেন্টাগনকে তাদের নির্ধারিত বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত আরও ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ করতে হতে পারে। জানা গেছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর প্রতি বছর প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল ব্যবহার করে থাকে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সামরিক কমান্ডারদের বেসামরিক খাতের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের ভাড়া বৃদ্ধির ধাক্কাও সামলাতে হচ্ছে। মার্কিন সেনারা প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য দাফতরিক কাজে প্রায়ই বাণিজ্যিক ফ্লাইট, ভাড়ায় চালিত গাড়ি ব্যবহার করেন এবং নিজস্ব গাড়ি ব্যবহারের জন্য সরকার থেকে যাতায়াত ভাতা পান। ফলে এসব খাতের ব্যয় বৃদ্ধি সামগ্রিক বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
এরই প্রেক্ষিতে, সেনাবাহিনীর ভ্রমণ ও যাতায়াত খাতের খরচের ওপর এখন কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্তত গত এপ্রিল মাস থেকে কিছু সামরিক ইউনিট তাদের প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত যাতায়াত বা ভ্রমণ পরিকল্পনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল অরল্যান্ডো হাওয়ার্ড এ প্রসঙ্গে বলেন, জ্বালানি বাজারের বর্তমান অস্থিরতার কারণে তেলের দাম বাড়ছে, যা আমাদের সেনাসদস্য, রসদ ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের খরচকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।
এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হতে যাওয়া চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ের জন্য মার্কিন সেনাবাহিনী প্রায় ৪০০ থেকে ৬০০ কোটি ডলারের বিশাল বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে। আর এই ঘাটতি সামাল দিতে গিয়ে তারা সামরিক প্রশিক্ষণে ‘ব্যাপক কাটছাঁট’ করতে বাধ্য হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই বিশাল বাজেট ঘাটতির পেছনে বেশ কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে। যার মধ্যে প্রধান হলো- ইরান যুদ্ধ, সীমান্ত মিশনগুলোতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন।
সময়ের আলো/আআ