‘শক্তিশালী ও অহংকারী’ বলেই চুক্তি করছে না ইরান : ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান এখনও কোনো শান্তি চুক্তিতে সম্মত না হওয়ার পেছনে দেশটির নেতাদের চরম ‘শক্তিশালী’

2026-06-06T21:10:47+00:00
2026-06-06T21:44:06+00:00
 
  শনিবার, ৬ জুন ২০২৬,
২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
‘শক্তিশালী ও অহংকারী’ বলেই চুক্তি করছে না ইরান : ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৯:১০ পিএম  আপডেট: ০৬.০৬.২০২৬ ৯:৪৪ পিএম  (ভিজিট : ২২)
সংগৃহীত ছবি
চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান এখনও কোনো শান্তি চুক্তিতে সম্মত না হওয়ার পেছনে দেশটির নেতাদের চরম ‘শক্তিশালী’ ও ‘অহংকারী’ মনোভাব দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বর্তমান বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত তেহরানের সামনে চুক্তি করা ছাড়া আর ‘কোনো বিকল্প বা উপায় নেই’ বলেও দাবি করেন তিনি।

শুক্রবার (৫ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের বিখ্যাত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। 

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা জাতি হিসেবে শক্তিশালী ও অহংকারী। বর্তমানে এমন কিছু কঠিন বিষয় সামনে চলে এসেছে, যা তারা অতীতে কখনও করবে বলে ভাবেনি; কিন্তু এখন এগুলো করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই এবং এই পরিস্থিতি মেনে নিতে তাদের কিছুটা সময় লাগছে’। 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধটি গত সপ্তাহে চতুর্থ মাসে পদার্পণ করেছে এবং দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলার মাঝেই ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক বক্তব্যটি এলো। এর আগে গত এপ্রিল মাসে দুই দেশ একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও তা কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে, তবে সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির কাছে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রণক্ষেত্রে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

এই সামরিক অভিযানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত বুধবার কংগ্রেস সদস্যদের জানান যে ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলো ছিল সম্পূর্ণ ‘আত্মরক্ষামূলক’ এবং হরমুজ প্রণালির কাছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি হামলার কড়া জবাব দিতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

রুবিও বলেন, ‘আমাদের বাহিনীকে রক্ষা করতে আমরা শুধু শত্রু ড্রোন নয়, বরং যেখান থেকে ড্রোন ছোড়া হয় সেই মূল ঘাঁটিতেও হামলা করেছি। তারা যদি জাহাজে অন্যায় হামলা না করত, তাহলে আমরাও এই হামলা চালাতাম না’। উল্লেখ্য, সংঘাতের জেরে কয়েক মাস আগে ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ে, যা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে ব্যাপক মূল্যস্ফীতি ঘটিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর বড় রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

সাক্ষাৎকারে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার জন্য চাপ দিতে থাকা মার্কিন সমালোচকদের তীব্র আক্রমণ করে ট্রাম্প বলেন, ‘এই ধরণের জটিল আন্তর্জাতিক সংকট শেষ করতে বছরের পর বছর লেগে যায়’। ইরানি নেতাদের দীর্ঘ সংঘাতের ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, ‘তারা গত ৪৭ বছর ধরে লড়াই করছে এবং তারা আমেরিকানদের হত্যা করেছে’। 

এই সংঘাতকে ঐতিহাসিক ভিয়েতনাম যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগোচ্ছি এবং ক্ষমতায় আসার পর আমি মাত্র তিন মাস সময় পেয়েছি; যেখানে ভিয়েতনাম যুদ্ধ দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে চলেছিল, সেখানে সবাই এখনই জানতে চায়— আমরা কবে জিতব?’ 

ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কারখানার সিংহভাগ এবং উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা হয়েছে, যার ফলে দেশটির আগের তুলনায় এখন মাত্র ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা অবশিষ্ট রয়েছে; যদিও চলতি সপ্তাহে পারস্য উপসাগরজুড়ে একাধিক পাল্টা হামলা চালিয়ে ইরান দেখিয়েছে যে তারা এখনও মার্কিন বাহিনীকে আঘাত করার সক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেনি।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

সময়ের আলো/টিএইচ


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: