ইরানের জব্দকৃত বা ‘ফ্রিজ’ করা অর্থ দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর পুনর্গঠন ও ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার এক নজিরবিহীন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের ভবিষ্যৎ যেকোনো হামলায় মার্কিন মিত্র দেশগুলোর যে ক্ষতি হবে, তা এই ইরানি তহবিল থেকেই মেটানো হতে পারে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ট্রেজারি (অর্থ) সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইতোমধ্যে তার কর্মকর্তাদের এই বিষয়ে একটি রূপরেখা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অতীতে ইরানের কারণে উপসাগরীয় মিত্রদের ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণ করতেও বলা হয়েছে। ওয়াশিংটন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে যেন সেই ক্ষতিপূরণও ইরানের এই জব্দকৃত সম্পদ থেকেই আদায় করা যায়।
আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ’ এবং ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’ একই সূত্রের বরাত দিয়ে এই খবরটি প্রকাশ করেছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটন তার সব ধরনের হাতিয়ার ব্যবহার করবে, যাতে ইরানের জব্দকৃত সমস্ত সম্পদ মার্কিন উপসাগরীয় মিত্রদের হাতে তুলে দেওয়া যায়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো— ভবিষ্যতে ইরানের কোনো আগ্রাসনে যে ক্ষয়ক্ষতি হবে, তার পুনর্গঠন ও মেরামতের খরচ এই অর্থ থেকেই নিশ্চিত করা।
এর একদিন আগেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো শান্তি চুক্তি বা সমঝোতা নির্ভর করছে আমেরিকার কাছে আটকে থাকা ইরানের ২৪ বিলিয়ন (২ হাজার ৪০০ কোটি) ডলারের জব্দকৃত তহবিল ছেড়ে দেওয়ার ওপর।
/কহু