লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের খোঁজে প্যারামেডিক ও উদ্ধারকর্মীদের মরিয়া তল্লাশি এখন এক নিত্যদিনের চেনা দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলের এই যুদ্ধকৌশলকে বিশ্লেষকেরা আখ্যা দিচ্ছেন ‘লেবাননকে গাজাকরণ’ হিসেবে। অর্থাৎ, গাজা উপত্যকায় যে পদ্ধতিগত ধ্বংসযজ্ঞকে ইসরায়েল গত কয়েক মাসে ‘স্বাভাবিক’ নিয়মে পরিণত করেছে, এখন অবিকল সেই একই নীলনকশা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে লেবাননে। অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে প্রখ্যাত সাংবাদিক নূর ওদেহর এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার মতোই এখন দক্ষিণ লেবাননের স্কুলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। গাজার মতোই বোমায় উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে লেবাননের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ক্লিনিক। বাদ যাচ্ছে না গণমাধ্যমকর্মীরাও; গাজার মতো লেবাননেও চলছে পরিকল্পিত সাংবাদিক হত্যাকাণ্ড।
সবচেয়ে নৃশংস কৌশল হিসেবে দেখা দিয়েছে ‘ডাবল ট্যাপ’ হামলা। এই পদ্ধতিতে কোনো স্থানে প্রথমবার হামলার পর যখন প্যারামেডিক এবং উদ্ধারকর্মীরা হতাহতদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন, ঠিক তখনই সেখানে দ্বিতীয়বার হামলা চালানো হয়। এই আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী ও অমানবিক চর্চার কারণে ইতোমধ্যে শত শত ফিলিস্তিনি ও লেবানিজ উদ্ধারকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। গাজায় যেভাবে একের পর এক ফিলিস্তিনি পরিবারকে পৃথিবীর বুক থেকে সম্পূর্ণ মুছে দেওয়া হয়েছে, লেবাননেও ঠিক একই উপায়ে পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
এই ‘গাজাকরণ’ প্রক্রিয়া কেবল যুদ্ধেই সীমাবদ্ধ নয়, তা ছড়িয়ে পড়েছে কথিত ‘যুদ্ধবিরতি’র কূটনীতিতেও। গাজায় প্রথম প্রবর্তিত তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা ‘হলুদ রেখা’র ফাঁদ এখন গাজার ৬০ শতাংশ অঞ্চলকে গ্রাস করেছে। লেবাননেও একই অদৃশ্য ‘হলুদ রেখা’ টেনে ইতোমধ্যে দেশটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশ) অঞ্চলকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং এই সীমানা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তথাকথিত যুদ্ধবিরতি চলাকালেও লেবাননের একের পর এক জনপদ ও এলাকাকে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। ঠিক যেভাবে গত আট মাসের ‘যুদ্ধবিরতি’র নামে গাজার বেইত হ্যানুন বা রাফাহ-এর মতো ঐতিহাসিক ও জনবহুল শহরগুলোকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে চিরতরে মুছে দেওয়া হয়েছে, লেবাননের ভাগ্যও এখন সেই একই নির্মম পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।
/কহু