চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলাবাজার সড়কটি এক যুগেও সংস্কার করা হয়নি। প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটিতে উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া না লাগায় বছরের পর বছর ধরে খানাখন্দ, ভাঙাচোরা অংশ, ধুলাবালি ও কাদামাটির কারণে এটি এখন স্থানীয়দের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। ফলে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি ও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলাউজান বাংলাবাজার সড়কটি এই এলাকার যোগাযোগ ও যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। এই সড়ক ব্যবহার করেই প্রতিদিন যাতায়াত করে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পশ্চিম কলাউজান শাহ মজিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, খতিজাতুল কোবরা দাখিল মহিলা মাদ্রাসা, শাহ মজিদিয়া হেফজখানা ও এতিমখানা, খালাসি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহ মজিদিয়া শিশু একাডেমি, গ্লোবাল ইনস্টিটিউট, ফাতেমা (রা.) ইবতেদায়ী মাদরাসা।
এ ছাড়া খালাসি পাড়া, বলি পাড়া, তেলি পাড়া, মেহেন্না বর পাড়া, সওদাগর পাড়া, হাসমত আলী পাড়া, বাহাদুর পাড়া, খলিল সিকদার বাড়ি, রাজা চেয়ারম্যান বাড়ি, করম আলী বর বাড়ি, মালী পাড়া, নাথ পাড়া ও তাঁতি পাড়ার মানুষের একমাত্র প্রধান সড়ক এটি। প্রতিদিন শিক্ষার্থী ছাড়াও রোগী, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীসহ অসংখ্য মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটি পশ্চিম কলাউজান শাহ মজিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় গেইট হতে বাংলাবাজার হয়ে তাঁতি পাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত। দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির অধিকাংশ স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক জায়গায় ইটের অস্তিত্ব পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কজুড়ে পানি ও কাদা জমে একাকার হয়ে যায়, যা হেঁটে চলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে উড়তে থাকে মাত্রাতিরিক্ত ধুলাবালি।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সড়কটির বেহাল দশার কারণে রাতে অন্ধকারে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ছোটোখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ, রোগী এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় কষ্ট।
রাসেদ হোছাইন (সহকারী শিক্ষক, খদিজাতুল কুবরা (রা.) মহিলা মাদ্রাসা) বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়। কাদা ও ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে অনেক সময় শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো ক্লাসে আসতে পারে না। এছাড়া জরুরি কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা আবদুস সবুর বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘ অবহেলার কারণে এখন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। দ্রুত এটি সংস্কার করা না হলে যে-কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সড়কটির কারণে এলাকার কৃষি, ব্যবসা ও শিক্ষাক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
কলাউজান ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ভুট্টো সড়কের বেহাল দশার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সড়কটির দুরবস্থার কারণে এলাকাবাসীকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরে আমরা একাধিকবার জানিয়েছি, কিন্তু এখনো পর্যন্ত টেকসই কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমি দ্রুত সড়কটি সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ জানান, কলাউজান ইউনিয়নের বাংলাবাজার সড়কটি সংস্কারের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবনাটি অনুমোদন পেয়ে এলে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।
সময়ের আলো/জোই