শনিবার (৬ জুন) দৈনিক সময়ের আলো অনলাইন সংস্করণে ‘তাড়াশ পৌরসভার বাইপাস সড়কে বিশাল খানাখন্দ, দুর্ভোগে পৌরবাসী’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সংস্কার কাজ শুরু করেছেন।
রোববার (৭ জুন) সকালে সরজমিনে দেখা যায়, তাড়াশ পৌর এলাকার টিএনটি মোড় থেকে উত্তরবাধ বাইপাস সড়কের বিশাল গর্তগুলোতে ইট ও ইটের খোয়া দিয়ে সংস্কার চলছে।
তাড়াশ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. মকুল হোসেন সংস্কার কাজের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, টিএনটি মোড় থেকে উত্তরবাধ বাইপাস সড়কে বড় বড় গর্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। এ নিয়ে দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। আমরা অবগত হয়ে রাজস্বখাতের অর্থে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করছি। এখন আর যাতায়াত করার কোন সমস্যা হবে না।
প্রসঙ্গত, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌর এলাকার পৌরসভা নিয়ন্ত্রণাধীন সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চলাচলে দুর্ভোগে পড়েছে পথচারীরা। খানাখন্দর সড়কে চলাচল করায় প্রতিদিনই ঘটে ছোট খাটো দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয় বাসিন্দাদের।
শনিবার (৬ জুন) সকালে দেখা যায়, তাড়াশ পৌর এলাকার টিএনটি মোড় থেকে উত্তর বাধ বাইপাস সড়কের মধ্যে বিশালাকৃতির গর্ত। যার কারণে ওই সড়কটি পুরোপুরি যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জানা যায়, এই রাস্তাটি তাড়াশ এলজিইডি নিয়ন্ত্রণাধীন রাস্তা। কিন্তু গত ২০১৭ সালে তাড়াশ পৌরসভা স্থাপিত হওয়ার পর থেকে তারা আর রাস্তাটির দায়ভার নিচ্ছেন না। ফলে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও এলজিইডি টানাটানির কারণে নজর নেই রাস্তাটির দিকে।
অপর দিকে, তাড়াশ পৌর এলাকার উত্তরবাধ ভাদাস মোড় থেকে পশ্চিম ওয়াপদা বাধ বাইপাস সড়কের মধ্যে বিশালাকৃতির প্রায় ৮-১০টি গর্তে সৃষ্টির হয়ে। ওই বাইপাস সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রাক, পিক-আপ, অটোরিকশা চলাচল করে। ওই সড়কটি পূর্বে সড়ক ও জনপথের উল্লাপাড়া আঞ্চলিক অফিসের আওতায় ছিল। সড়কটির একই অবস্থা পৌরসভা হওয়ার পর থেকে তারাও দ্বায়িত্ব না নেয়ায় দীর্ঘদিন যাবৎ সংস্কার হয় নি। যার কারণে রাস্তার বেহাল দশা।
স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম জানান, এই বাইপাস সড়ক দিয়ে উপজেলার উত্তর জনপদের মানুষ জন দ্রুততম সময়ের মধ্যে উপজেলা হাসপাতালে রোগী নিয়ে আসেন। এছাড়া পৌরবাজারের মধ্যে দিয়ে না গিয়ে বাইপাস সড়ক দিয়ে লোকজন জেলাশহর সহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করে থাকেন।
পৌর এলাকার বাসিন্দা মানিক হোসেন বলেন, এখানকার পৌরসভার নিয়ন্ত্রণাধীন এই সড়কে মোটরসাইকেল চালাতে পারি না। অটোরিকশাও এই সড়কে দিয়ে যেতে চায় না। কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছি আমরা। কিন্তু আমাদের এই কষ্ট দেখার কেউ নেই।’
অটোরিকশা চালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাস্তার খুবই খারাপ অবস্থা। প্রায়ই গাড়ির যন্ত্রাংশ ভেঙে যায়। পৌরসভার কাছে দাবি করছি দ্রুতই সড়কগুলো মেরামত করা হোক।
তবে সংবাদ প্রকাশের পর তাড়াশ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মুকুল হোসেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কার করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
সময়ের আলো/জেডি