বিশ্বকাপে খেলব এমন ভাবনাই ছিল না : ম্যাকগিন

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

একসময় জন ম্যাকগিন নিজেও বিশ্বাস করতেন না যে, তিনি কোনোদিন স্কটল্যান্ড জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপাবেন। বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

2026-06-08T06:04:29+00:00
2026-06-08T06:04:29+00:00
 
  সোমবার, ৮ জুন ২০২৬,
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
খেলা
বিশ্বকাপে খেলব এমন ভাবনাই ছিল না : ম্যাকগিন
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৬:০৪ এএম   (ভিজিট : ১১)
ছবি : সংগৃহীত
একসময় জন ম্যাকগিন নিজেও বিশ্বাস করতেন না যে, তিনি কোনোদিন স্কটল্যান্ড জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপাবেন। বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। অথচ আজ তিনিই স্কটিশ ফুটবলের অন্যতম নির্ভরতার প্রতীক, সমর্থকদের হৃদয়ের নায়ক এবং দলের অনুপ্রেরণার উৎস। 

দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরতে যাওয়া স্কটল্যান্ডের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও আত্মবিশ্বাসের গল্পে ম্যাকগিন যেন এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন, দলের অদম্য মানসিকতা এবং বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস গড়ার প্রত্যাশা নিয়ে ফিফার সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন এই তারকা মিডফিল্ডার।

এই মৌসুমে অ্যাস্টন ভিলাকে উয়েফা ইউরোপা লিগ শিরোপা জেতানো অধিনায়ক ম্যাকগিনের ভাগ্যে এমন নায়কোচিত মর্যাদা আগে থেকে লেখা ছিল না। তিনি ফিফাকে বলেছিলেন, আমি কখনো ভাবিনি যে স্কটল্যান্ডের হয়ে খেলতে পারব, বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা তো অনেক দূরের কথা।

আট বছর পরের বাস্তবতা হলো, ম্যাকগিন তার প্রথম ফিফা বিশ্বকাপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন ক্লাব ও দেশের জন্য সমানভাবে প্রশংসিত এক অবিচ্ছেদ্য খেলোয়াড় হিসেবে। স্কটল্যান্ডের হয়ে তার ২০টি গোল রয়েছে, যা তাকে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় পঞ্চম স্থানে নিয়ে গেছে। তিনি অ্যালি ম্যাককোইস্টকে ছাড়িয়ে গেছেন, স্কট ম্যাকটমিনের চেয়ে ছয় গোল এগিয়ে আছেন এবং যৌথ রেকর্ডধারী কেনি ডালগ্লিশ ও ডেনিস ল’র চেয়ে মাত্র দশ গোল পিছিয়ে।

ম্যাকগিন বিশ্বাস করেন, তার গল্প ২০২৬ সালের স্কটল্যান্ড দলের সেই দৃঢ় সংকল্পেরই প্রতিফলন। তিনি বলেন, আমাদের স্কোয়াডের দিকে তাকালে দেখবেন, আমরা অনেক অসাধারণ যাত্রার মধ্য দিয়ে এসেছি, অনেক বাধা ও ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েছি। 

আর এসবই আপনাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। ড্রেসিংরুমে এমন অনেক খেলোয়াড় আছে, যাদের বলা হয়েছে তারা যথেষ্ট ভালো নয়, তারা খুব খাটো, যথেষ্ট ফিট নয় কিংবা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির চোখে আদর্শ ফুটবলারের সংজ্ঞায় পড়ে না। কিন্তু আমাদের আছে অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাস এবং নিজেদের ওপর বিশ্বাস। আমরা কখনো হাল ছাড়ি না।

বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন নিশ্চিত করা ডেনমার্কের বিপক্ষে সেই নাটকীয় জয় যেখানে যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ একবার হাতছাড়া হয়েছিল, আবার শেষ মুহূর্তের দুটি দুর্দান্ত গোলে নিশ্চিত হয়েছিল এই অদম্য মানসিকতার সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ। ম্যাকগিন সেই ছয় গোলের থ্রিলার ম্যাচটিকে বর্ণনা করেন, ফুটবলে জড়িত থাকার মধ্যে এটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে পাগলাটে দিন।

তবে তিনি মনে করেন, আরও দুই বছর আগে নরওয়ের বিপক্ষে একটি ম্যাচই প্রথম তাকে এই দলের সম্ভাবনা সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছিল। ম্যাকগিন বলেন, ইউরো ২০২৪ বাছাইপর্বে আমরা অসলোতে নরওয়ের বিপক্ষে খেলছিলাম। তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস- অস্বাভাবিক গরম একটি দিন। ৮৮ মিনিট ধরে আমরা পুরোপুরি চাপে ছিলাম। সত্যিই বিধ্বস্ত হয়েছিলাম। 

কিন্তু তারপরও আমরা এক গোল পিছিয়ে থেকে ফিরে এসে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিলাম। সেই মুহূর্ত থেকেই আমি বুঝেছিলাম, এই দলের মধ্যে বিশেষ কিছু আছে- অসাধারণ চরিত্র, ব্যক্তিত্ব এবং কখনো হার না মানার মানসিকতা। তাই ডেনমার্ক ম্যাচের ঘটনা আমার কাছে খুব একটা বিস্ময়কর ছিল না।

এখন প্রশ্ন হলো, ২৮ বছর পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া স্কটল্যান্ড কি এই খেলোয়াড়দের এবং তাদের সেই মানসিক শক্তি কাজে লাগিয়ে আরও ইতিহাস গড়তে পারবে? ম্যাকগিন, যার পরিবারের সঙ্গে স্কটল্যান্ডের সর্বশেষ বিশ্বকাপ উপস্থিতির একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে, এ বিষয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী। 

তিনি বলেন, ১৯৯৮ সালে আমার বয়স ছিল চার বছর। তখন আমার দাদা (প্রয়াত জ্যাক ম্যাকগিন) স্কটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন। আমি মনে করতে পারি, তিনি কিছু স্মারক সামগ্রী নিয়ে ফিরেছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপের ঘটনাগুলো নিজে আমার মনে নেই। 

ভাবতেই অবাক লাগে, স্কটল্যান্ড এত দীর্ঘ সময় বিশ্বকাপে ছিল না। পুরো দেশের জন্য এটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। আমি যখন বাড়িতে ফিরে ভাতিজা-ভাতিজিদের স্কুলে নিয়ে যাই, তখন বুঝতে পারি এই অর্জনের প্রভাব শুধু আমাদের প্রজন্মের ওপর নয়, নতুন প্রজন্মের ওপরও কতটা পড়ছে। আশা করি, এটি তাদের ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা জোগাবে।

তিনি আরও বলেন, আমি সত্যিই বিশ্বাস করি যে আমরা নকআউট পর্বে পৌঁছাতে পারব। এই স্কোয়াডের মধ্যে রয়েছে দৃঢ় মনোযোগ এবং এমন কিছু অর্জনের সংকল্প, যা আগে কোনো স্কটল্যান্ড দল করতে পারেনি। 

আমাদের অনেক খেলোয়াড় ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলছে, যা আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। বড় ম্যাচে খেলা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের অভিজ্ঞতা প্রতিটি নতুন চ্যালেঞ্জকে কিছুটা সহজ করে দেয়। ধীরে ধীরে আপনি এসবের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। আমাদের দল এখন অনেক বেশি অভিজ্ঞ এবং আরও শক্তিশালী অনুভব করছে।

আর যদি অতিরিক্ত অনুপ্রেরণার প্রয়োজন হয়, তা হলে ম্যাকগিন সবসময় স্কটল্যান্ডের সমর্থকদের এবং সেই বিখ্যাত ‘জিদানের চেয়েও ভালো’ স্লোগানের ওপর ভরসা করতে পারেন। এটাও স্পষ্ট যে, স্কটল্যান্ডের সমর্থকগোষ্ঠী ‘টার্টান আর্মি’ যেমন তাদের তারকা মিডফিল্ডারকে ভালোবাসে, ম্যাকগিনও তাদের প্রতি সমান শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পোষণ করেন।

ম্যাকগন বলেন, সমর্থকদের কাছ থেকে আমি সবসময় একই জিনিস আশা করি- অবিশ্বাস্য সমর্থন এবং নিষ্ঠা। কিন্তু যে বিষয়টি আমাকে একজন স্কটিশ এবং স্কটল্যান্ডের খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে বেশি গর্বিত করে, তা হলো তারা অন্য মানুষের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করে। তাদের কারণে কখনো কোনো ঝামেলা হয় না। তারা সবসময় একে অপরের খোঁজখবর রাখে এবং কেউ সীমা অতিক্রম করলে নিজেরাই বিষয়টি সামলে নেয়।

তিনি আরও বলেন, আমেরিকায় যদি আমরা টার্টান আর্মিকে স্মরণীয় কোনো মুহূর্ত উপহার দিতে পারি, তা হলে সেটা হবে বিশাল ব্যাপার। আমার বাবার বন্ধুদের কাছ থেকে এবং আমার নিজের বন্ধুদের কাছ থেকেও আমি জানি, স্কটল্যান্ডকে অনুসরণ করতে কত খরচ, কত ছুটি এবং কত ভ্রমণ করতে হয়। 

কিছু মানুষ তো পুরো জীবনই স্কটল্যান্ডের পেছনে উৎসর্গ করে দেয়। আমরা সবসময় সমর্থকদের জন্য বড় বড় স্মৃতি তৈরি করতে চেয়েছি। আশা করি, এবার আমরা তাদের আরও বিশেষ কিছু মুহূর্ত উপহার দিতে পারব।

/এসএকে


  বিষয়:   বিশ্বকাপ  খেলা  ম্যাকগিন  ফুটবল  ফিফা 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: