‘তিন সন্তানকে অনেক কষ্ট করে মানুষ করেছি। আজ সুখের সময় কেন আমার বুকের মানিককে এভাবে হত্যা করা হলো! আমার ছেলের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা, কয়েকদিন পরই সন্তান পৃথিবীর মুখ দেখবে। সেই শিশুটি তার বাবাকে কোথায় পাবে?’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই মোবাইলে থাকা ছেলের ছবি হাতে নিয়ে নিজের মনের আর্তনাদ প্রকাশ করছিলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা ইউনিয়নের মীরেরখীল এলাকার নিহত প্রবাসী মো. ওমর ফারুকের (২৫) মা গুলতাজ বেগম।
নিখোঁজ হওয়ার ৪ দিন পর রাঙ্গুনিয়ার পার্শ্ববর্তী বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা এলাকার একটি পাহাড়ি লিচু বাগান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ওমর ফারুকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত ফারুক দীর্ঘ ৭ বছর ওমানে প্রবাস জীবন কাটিয়ে প্রায় দেড় বছর আগে দেশে ফিরে বিয়ে করে সংসার জীবন শুরু করেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত ২ জুন নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন ফারুক। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে শনিবার (৬ জুন) সকালে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে বোয়ালখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করলে জানা যায়, সেটি ওমর ফারুকের।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ফারুকের বাড়ি রাঙ্গুনিয়া থানা এলাকায় হলেও মরদেহ উদ্ধার হয়েছে বোয়ালখালী থানা এলাকায়। ফলে, আইনগত ব্যবস্থা ও মামলা বোয়ালখালী থানায় হবে। তবে, রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ ঘটনাটির ছায়াতদন্তে সহযোগিতা করছে।’
/মহু