আজ নারী ফুটবল বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে লড়াই করেন বিশ্বের সেরা ফুটবলাররা। কিন্তু তিন দশকেরও বেশি আগে নারী ফুটবলের বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অবহেলা, সংশয় আর সীমিত সুযোগের মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছিল নারী ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে যাত্রা।
১৯৯১ সালে চীনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ফিফার ইতিহাসের প্রথম বৈশ্বিক নারী ফুটবল প্রতিযোগিতা। তবে সেই সময় নারী ফুটবলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান ছিল ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তাই টুর্নামেন্টটির নামেও ছিল ব্যতিক্রম। ‘ফিফা উইমেনস ওয়ার্ল্ড কাপ’ না বলে এর নাম রাখা হয়েছিল ‘ফিফা উইমেনস ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ ফর দ্য এম অ্যান্ড এম’স কাপ’।
শুধু নামেই নয়, আয়োজনেও ছিল নানা সীমাবদ্ধতা। দর্শক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে স্থানীয় কারখানার শ্রমিকদের স্টেডিয়ামে নিয়ে আসা হয়েছিল। নারী ফুটবলারদের শারীরিক সক্ষমতা নিয়েও সংশয় ছিল আয়োজকদের মধ্যে। সেই কারণে ম্যাচের সময় ৯০ মিনিটের পরিবর্তে ৮০ মিনিট নির্ধারণ করা হয়। এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে সে সময় সমালোচনাও হয়েছিল ব্যাপক।
আরও পড়ুন
মার্কিন দলের অধিনায়ক এপ্রিল হেইনরিখস তখন ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেছিলেন, মনে হচ্ছে ফিফা ভাবছে নারী খেলোয়াড়রা ৯০ মিনিট খেলতে পারবে না। এমনকি মাঠে ছোট আকারের বল ব্যবহারের বিষয়টিও একপর্যায়ে বিবেচনায় ছিল বলে জানা যায়।
প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়ন হওয়া যুক্তরাষ্ট্র দলের গল্পও ছিল সংগ্রামের। বর্তমান সময়ের মতো পেশাদার সুযোগ-সুবিধা তখন ছিল না। খরচ কমাতে দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টার বিমান ভ্রমণ করে চীনে পৌঁছাতে হয়েছিল দলটিকে। খেলতে হয়েছিল পুরুষদের যুব দলের ব্যবহৃত পুরোনো জার্সি পরে। খেলোয়াড়দের দৈনিক ভাতা ছিল মাত্র ১০ ডলার।
তবুও মাঠে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয় মার্কিন নারীরা। সেমিফাইনাল পেরিয়ে ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে জয় তুলে নেয় দলটি। মিশেল একার্সের দুটি গোল যুক্তরাষ্ট্রকে এনে দেয় ইতিহাসের প্রথম নারী বিশ্ব শিরোপা।
তবে শিরোপা জয়ের পরও তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল না কোনো জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা। গণমাধ্যমের সীমিত আগ্রহের কারণে দেশে ফিরে কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষীর অভিনন্দনেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল সেই চ্যাম্পিয়ন দলকে।
কিন্তু ইতিহাস বলছে, সেই নীরব বিজয়ই ছিল এক বড় পরিবর্তনের সূচনা। ১৯৯১ সালের সেই ছোট পরিসরের আয়োজনই পরবর্তীতে নারী ফুটবলকে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়া ইভেন্টে পরিণত করার ভিত্তি গড়ে দেয়। আজকের নারী বিশ্বকাপের বিপুল জনপ্রিয়তা, দর্শক উপস্থিতি ও বাণিজ্যিক সাফল্যের পেছনে তাই বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে সেই পথিকৃৎ টুর্নামেন্ট এবং তার সাহসী ফুটবলারদের অবদান।
এএডি/