বিশ্ব ফুটবল প্রশাসনের বহুল আলোচিত এক অধ্যায় আবারও সামনে চলে এসেছে। সাবেক উয়েফা সভাপতি মিশেল প্লাতিনি এবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছেন। প্রায় এক দশক আগে তার ফুটবল প্রশাসনিক ক্যারিয়ার থমকে যাওয়ার পেছনে পরিকল্পিত অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র ছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের একটি আদালতে দায়ের করা মামলায় ইনফান্তিনোর পাশাপাশি ফিফার সাবেক আইনি পরিচালক মার্কো ভিলিগার এবং সাবেক অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ডোমেনিকো সালাকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
প্লাতিনির দাবি, ২০১৫ সালে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ও নেতিবাচক প্রচারণা ছড়ানো হয়েছিল, তা ছিল সুপরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর লক্ষ্য ছিল তাকে ফিফা সভাপতির দৌড় থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পদে পৌঁছানোর পথ বন্ধ করা।
আরও পড়ুন
তার আইনজীবীরা বলছেন, এই মামলার মাধ্যমে তারা প্রমাণ করতে চান যে প্লাতিনির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। পাশাপাশি তিনি ফিফার বিরুদ্ধে পৃথক দেওয়ানি মামলারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যেখানে সুনামহানি ও পেশাগত ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা হতে পারে।
ফুটবল প্রশাসনের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত এই ঘটনার সূত্রপাত ২০১১ সালে প্রকাশ্যে আসা একটি আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে। সাবেক ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটারের অনুমোদনে প্লাতিনি ২০ লাখ সুইস ফ্রাঁ গ্রহণ করেছিলেন, যা ১৯৯৮ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে দেওয়া পরামর্শমূলক সেবার পারিশ্রমিক হিসেবে দাবি করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পর সেই অর্থ পরিশোধ হওয়ায় বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসে।
পরবর্তীতে ২০১৫ সালে ওই অর্থ লেনদেন নিয়ে বিতর্ক তীব্র হলে প্লাতিনি ও ব্লাটার উভয়েই ফুটবল কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ হন। সেই সময় ফিফা সভাপতির সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল প্লাতিনিকে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়েন।
এর ফলে ২০১৬ সালে ফিফার নির্বাচনে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জন্য সুযোগ তৈরি হয় এবং তিনি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদে নির্বাচিত হন। এরপর আরও দুই মেয়াদে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দায়িত্ব ধরে রাখেন।
এএডি/