শ্রমবাজারের নতুন দিগন্তের প্রত্যাশায় বাংলাদেশ

সম্পাদকীয়

মতামত

বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য শ্রমশক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশে আরও বেশিসংখ্যক জনগণের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশে রফতানির

2026-06-11T05:27:26+00:00
2026-06-11T05:27:26+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬,
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
মতামত
লক্ষাধিক শ্রমশক্তি রফতানি করতে চায় সরকার
শ্রমবাজারের নতুন দিগন্তের প্রত্যাশায় বাংলাদেশ
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৫:২৭ এএম   (ভিজিট : ১১)
গ্রাফিক : সময়ের আলো
বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য শ্রমশক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশে আরও বেশিসংখ্যক জনগণের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশে রফতানির সম্ভাবনা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকার একের পর এক উদ্যোগ গ্রহণ করছে। সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান রাশিয়া সফর করেন। এই সফরে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে আলাপ হয়েছে। আবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ আরেক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

মালয়েশিয়া, যা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহৎ শ্রমবাজার- এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় দেশের শ্রমশক্তির জন্য ক্ষতিসাধন হয়েছে। তবে এই বন্ধ্যত্বের অবসান ও শ্রমবাজার খুলে যাওয়ার সম্ভাবনায় আবার জাগরণ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের একটি বড় মাধ্যম হচ্ছে জনশক্তি রফতানি। প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা বৃদ্ধি করছে।

দৈনিক সময়ের আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়- সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী এক বছরের মধ্যে লক্ষাধিক শ্রমশক্তিকে মালয়েশিয়ায় রফতানি করা। এর পেছনে রয়েছে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও শ্রমবাজারের দ্রুত উন্মুক্তকরণ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিন্ডিকেটমুক্ত প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে এই লক্ষ্যমাত্রা সহজেই অর্জিত হতে পারে। শ্রমবাজার খোলা সম্ভব হলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচিত হবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সফর নতুন অগ্রগতির পথ প্রশস্ত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের পুনরুদ্ধার ও খুলে দেওয়ার জন্য সরকারের জোর প্রচেষ্টা চলমান। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, আগামী অর্থবছরে ২ লাখের বেশি শ্রমিককে বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলে দেওয়ার জন্য কাজ চলছে, আর এর জন্য প্রয়োজন সিন্ডিকেটমুক্ত ও ন্যায্য নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। বিশেষ করে, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় এই বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের ইতিহাস বেশ জটিল। ২০০৮ সালে বন্ধের পর ২০১৬ সালে কিছুটা খুললেও দুর্নীতির অভিযোগে তা ২০১৮ সালে আবার বন্ধ হয়। এরপর ২০২২ সালে কিছু কিছু পুনরায় খুললেও ২০২৪ সালে আবার বন্ধ হয়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, সঠিক নীতিমালা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই বাধা কাটিয়ে শ্রমবাজার আবারও চালু হওয়া সম্ভব। শ্রমবাজারের এই সংকট মোকাবিলায় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, কারণ পরিবর্তিত বিশ্ববাজারে অদক্ষ শ্রমিকের চাহিদা কমে আসছে।

এ প্রসঙ্গে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর কর্মকর্তা বলছেন, সিন্ডিকেট দূর করা ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া চালু করলে লক্ষাধিক শ্রমশক্তি রফতানি সম্ভব। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, দ্রুত শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার জন্য সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য- স্বচ্ছ, কম খরচে ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় শ্রমিক পাঠানো। এ জন্য দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশে চাকরি নিয়ে যাওয়ার আগে কারিগরি শিক্ষা লাভের জন্য তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগে দেশব্যাপী প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে অনেক ইনস্টিটিউট ও ট্রেনিং সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠান স্বল্প খরচে নানা ধরনের কারিগরি বিষয়ে জ্ঞানলাভের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ, অভিজ্ঞ, কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে চাহিদাসম্পন্ন করে তোলা সম্ভব।

বাংলাদেশের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বে শ্রমবাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে না তুললে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ঝুঁকির মুখে পড়বে। এ কারণেই প্রয়োজন দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের, যাতে বাংলাদেশের শ্রমশক্তি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হয়। প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হতে পারে, যেখানে বাংলাদেশের শ্রমিকরা তাদের যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিতে নিজের স্থান করে নেবে। 

বর্তমান বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার খোলার বিষয়টি আমাদের জন্য একটি সুখবর। তবে এ ক্ষেত্রে জনশক্তি বিশেষজ্ঞ এবং ব্যবসায়ীরা এ বাজারে কর্মী পাঠানো নিয়ে সিন্ডিকেট বাণিজ্যের যে শঙ্কার কথা বলছেন তা দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। আমাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।

সময়ের আলো/আআ




Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: