যোগ্যতাই হোক বদলি-পদোন্নতির ভিত্তি

সম্পাদকীয়

মতামত

চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী নজিরবিহীন ও বহুমুখী সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ফলে এই

2026-08-09T06:36:06+00:00
2026-08-09T06:36:06+00:00
 
  রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬,
২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
মতামত
পুলিশ বাহিনীর সংকট
যোগ্যতাই হোক বদলি-পদোন্নতির ভিত্তি
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৬ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী নজিরবিহীন ও বহুমুখী সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ফলে এই বাহিনীর প্রতি ব্যাপক জনঅসন্তোষ দেখা দেয়। অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে চালানো সহিংসতার কারণে তারা জনআস্থা হারায়। পরবর্তী সময়ে বাহিনীতে শুরু হয় পর্যায়ক্রমিক রদবদল। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার। 

বদলি ও পদোন্নতি ঘিরে তদবির এবং চাকরির অনিশ্চয়তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জটিল এক পরিস্থিতিতে পড়েছে। পুলিশ বাহিনী এখনও কাঠামোগত ও মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, পূর্ণ শক্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। পুলিশ সদস্যদের মনোবল দুর্বল হলে জননিরাপত্তায় তার সরাসরি প্রভাব পড়ে। 

গত দুই বছরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশ বাহিনীতে ব্যাপক বদলি, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, বাধ্যতামূলক অবসর, পদোন্নতি ও নিয়োগ নিয়ে নানা পরিবর্তন এসেছে। অনেক সদস্য অতীতে পদোন্নতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছেন। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারা ন্যায্য প্রতিকার প্রত্যাশা করছেন। সমস্যা হচ্ছে, পদের তুলনায় পদপ্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি। 

যে কারণে সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব হচ্ছে না। বদলি-পদায়ন ঘিরে তদবিরের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারও চালানো হচ্ছে। নতুন কর্মস্থলে কাজের পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার আগেই বদলি হলে পুলিশের মাঠপর্যায়ের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ‘মব কালচার’ পুলিশ সদস্যদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। 

পুলিশ বাহিনীর আজকের সংকট যে চব্বিশের পর তৈরি হয়েছে তা নয়। এর শেকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। সব সরকারের আমলেই পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগ, বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতির নেপথ্যে ছিল রাজনৈতিক বিবেচনা। আর এ কারণে পুলিশকে সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কাজ বারবার হোচট খাচ্ছে। দক্ষতা-যোগ্যতা যদি উপেক্ষিত হয়, তদবির বা কোনো ‘প্রাপ্তি’র ভিত্তিতে যদি বদলি-পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তখন বাহিনীর অভ্যন্তরে অনিশ্চয়তা বাড়ে। আর অনিয়ম সবসময় দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করে। পুলিশে নিয়োগ থেকে শুরু করে বদলি-পদন্নোতি পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে ‘অনৈতিক লেনদেনের’ অভিযোগ নতুন নয়।

উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা তথ্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ বাহিনী বা বাহিনীর কোনো কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর প্রবণতা উদ্বেগের বিষয়। প্রচারণা বন্ধ হওয়া দরকার। তবে এ ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। কোনটা অভিযোগ আর কোনটা অপপ্রচার সেটা যাচাই করে দেখতে হবে। কোনো বক্তব্যকে ‘অপপ্রচার’ বলার আগে স্বাধীনভাবে স্বচ্ছতার সঙ্গে তার সত্যতা যাচাই করা দরকার। 

পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হলে সেটা যেমন বন্ধ করতে হবে, তেমন কোনো অভিযোগের সত্যতা মিললেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তা হলে পুলিশ জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারবে। অজ্ঞাতনামা ‘কুচক্রী মহল’ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর দায় চাপিয়ে ঢালাওভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

অতীত সরকারের আমলে নিয়োগ পেয়েছেন বলে কেউ বঞ্ছনার শিকার হবেন সেটা সংগত নয়। অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা-যোগ্যতার ভিত্তিতে বদলি-পদোন্নতি হলে বাহিনীই উপকৃত হবে, জনগণও এর সুফল পাবে। আবার অতীতে কারও বিরুদ্ধে যদি গুরুতর অনিয়মে যুক্ত থাকার অভিযোগ থাকে সেটাকে আড়াল করাও ঠিক নয়। 

সেসব অভিযোগের যৌক্তিক সুরাহা করতে হবে। সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব তাই দুদিকেই সমান। একদিকে সৎ ও পেশাদার সদস্যদের অন্যায় হয়রানি থেকে রক্ষা করা যেমন দায়িত্ব, তেমনই কারও বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান করাও কর্তব্য। এই ভারসাম্য রাখা অত্যন্ত জরুরি।

পুলিশ সংস্কারের বৃহত্তর প্রক্রিয়ায় নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা ও অভিযোগ তদন্তের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক মানদণ্ড শক্তিশালী করতে হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশকে কোনো দল বা সরকারের আনুগত্যের বাহিনী নয়, আইনের অধীন একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হয়।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   যোগ্যতা  বদলি  পদোন্নতি  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: