বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আগামীকাল শুক্রবার (১২ জুন) সড়কপথে ঢাকায় আসছেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে রওনা হয়ে কলকাতার পেট্রাপোল এবং বাংলাদেশের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে তিনি সস্ত্রীক সীমান্ত পার হবেন। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (রাজনৈতিক, প্রেস ও তথ্য) গোকুল ভি কে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জানান, ১২ জুন শুক্রবার পেট্রাপোল-বেনাপোল হয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশে আসছেন। তার সঙ্গে থাকছেন সহধর্মিণী মৃণাল ত্রিবেদীও। নতুন হাইকমিশনারকে বরণ করে নিতে ভারতীয় হাইকমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
গত এপ্রিলে ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দল বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা ৭৫ বছর বয়সী দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় নয়াদিল্লি। গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদকে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে পাঠাচ্ছে দিল্লি।
তিনি বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন, যিনি ইতিমধ্যেই ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দিয়েছেন।
বাংলাভাষী প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ রবীন্দনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম থেকে শুরু করে সমগ্র বাঙালি সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর পাণ্ডিত্য রাখেন। ভারতের কংগ্রেস, জনতা দল, তৃণমূল কংগ্রেস হয়ে পরবর্তীতে বিজেপিতে যোগ দেওয়া দীনেশ ত্রিবেদীর রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সাবেক এই রেলমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি লোকসভা ও রাজ্যসভা— উভয় কক্ষেরই সদস্য ছিলেন এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন।
ঢাকায় দায়িত্ব নেওয়ার পূর্বে বৃহস্পতিবার কলকাতায় ভারতের ঐতিহাসিক ‘নেতাজি ভবন’ পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আমাদের শুধু অভিন্ন সীমান্ত নেই, অভিন্ন স্বপ্নও আছে। আমাদের আকাশ এক, বাতাস এক, চ্যালেঞ্জও অনেক ক্ষেত্রে এক। তাই আমাদের পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। ভালোবাসা আর পারস্পরিক আন্তরিকতার মাধ্যমে দুই দেশের সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।
/কহু