যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনা ও দফায় দফায় বিমান হামলার মাঝেই এক নতুন ও বিস্ফোরক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, আজ রাতেই ইরানকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত শক্তিশালী ও ভয়াবহ সামরিক হামলা চালাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর পোস্টে দাবি করেন, মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি ইতিমধ্যেই প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি লিখেছেন, আজ রাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে অত্যন্ত ভয়াবহ আঘাত হানতে যাচ্ছে। ইরানের নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, রাডার, বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সমস্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি তাদের আক্রমণাত্মক ক্ষমতার বড় অংশই এখন পুরোপুরি শেষ!
হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের প্রধান অর্থনৈতিক উৎস জ্বালানি খাতের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের প্রধান তেল টার্মিনাল ‘খার্গ দ্বীপ’ দখলের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, খুব দূর নয়, এমন এক সময়ে আমরা খার্গ দ্বীপসহ ইরানের অন্যান্য তেল অবকাঠামোগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেব। এরপর তাদের তেল ও গ্যাস বাজারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে চলে আসবে; ঠিক যেভাবে আমরা ভেনিজুয়েলার ক্ষেত্রে করেছি, যা ভেনিজুয়েলা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের জন্যই চমৎকারভাবে কাজ করছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপটি দখল বা অবরুদ্ধ করার হুমকি বারবার দিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। মূলত চলতি সপ্তাহে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে ইরানের হাতে একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়।
এরই প্রতিক্রিয়ায় গত মঙ্গলবার ও বুধবার রাতে ইরানের রাজধানী তেহরান এবং বন্দর আব্বাসসহ বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানও কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের মতো মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
ট্রাম্পের এই নতুন হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই হুংকারের জবাবে ইরানের সংসদীয় জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো মার্কিন আগ্রাসনের এবার ‘আরও তীব্র ও বেদনাদায়ক’ জবাব দেওয়া হবে।
/কহু