রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ১ নম্বর নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পশ্চিম পাশে অবস্থিত নওপাড়া দাখিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মাদরাসাটির পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৪ সালে। ২০০৬ সাল থেকে এই মাদরাসার শিক্ষার্থীরা একাডেমিক (দাখিল) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসছে। এখানে বর্তমানে ১৮ জন শিক্ষক ও কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন। জরাজীর্ণ প্রতিষ্ঠানে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। সীমিত সুযোগ-সুবিধা এবং আর্থিক সুবিধা না থাকলেও শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি সহায়তা না থাকায় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাশতুরা আমিনা বলেন, তারা যদি প্রতিষ্ঠানটির এমপিওভুক্ত করার জন্য আবেদন করেন প্রশাসনিকভাবে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
আরও পড়ুন
উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার মহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন থেকে চলমান রয়েছে। তারা এমপিওভুক্ত করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আশা করি, প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হবে। তখন শিক্ষকদের মানবেতর জীবনের কষ্ট লাঘব হবে।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাসুম বলেন, আমাদের মাদরাসার প্রতিটা ক্লাসরুমে বৃষ্টির পানি পড়ে। এর মধ্যেই আমাদের কষ্ট করে ক্লাস করতে হয়।
মাদরাসার সহকারী সুপার আ. কাদের জানান, দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে তারা ন্যায্য বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন যা তাদের জীবিকা নির্বাহে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, আমার সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেই এক বেলা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস নিয়ে আরেক বেলা মানুষের জমিতে কাজ করে তাদের সংসার চালাচ্ছেন। যেহেতু আমাদের এই মাদরাসাটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করেছিলেন তাই প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাই, আমাদের এই মাদরাসাটি যেন এমপিওভুক্ত করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান সভাপতি রহুল আমিন বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ২০০৩ সালে তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করেছিলেন বলে আওয়ামী শাসনামলে এই প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত করা হয়নি এবং কোনো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়নি। এমনকি তারেক রহমানের নামফলকটি অনেকবার ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।
আমরা তা রক্ষা করেছি। তাই প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও আমাদের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলামের কাছে জোর দাবি, প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত এমপিওভুক্ত করে শিক্ষকদের বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করা হোক।
এলাকাবাসীর মতে, দ্রুত মাদরাসাটিকে এমপিওভুক্ত করা হলে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে। শিক্ষকরা বেতন-ভাতা পেলে তাদের কাজে আরও উৎসাহ পাবেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত করার জন্য জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
এএডি/