নওগাঁর মহাদেবপুরে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়ার জের ধরে হাসিনা খাতুন (৫৪) নামে মধ্যবয়স্ক এক নারীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে প্রতিপক্ষরা সন্ত্রাসী কায়দায় হাসিনাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বেঁধে চোখে-মুখে ও গোপনাঙ্গে ঝালের গুড়ো লাগিয়ে গাঁজার পুরিয়া ঢুকিয়ে দেয়। তিনি উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মহিষবাথান সরদারপাড়া গ্রামের আহাদ আলীর স্ত্রী। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে তার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এর আগের দিন দুপুরে তিনি গাহলী বাজারে একটি মানববন্ধনে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মারধর করে তাকে উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং বিরোধপূর্ণ জমি দখল করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন মণ্ডলকে দায়ী করেন। তার ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে আব্দুল মতিন মণ্ডল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে এখনো কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় চিকিৎসাধীন হাসিনা খাতুন জানান, মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়ার জের ধরে আব্দুল মতিনের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা তাদের বাড়িতে গিয়ে ঘরের মধ্যে থেকে তাকে মারপিট করে। পরে তাকে ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে একটি ডাব গাছের সাথে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে। সেখানে তার চোখে, মুখে, সারা শরীরে এমনকি গোপনাঙ্গে ঝালের গুড়ো লাগিয়ে দেয়। তার নিম্নাংশে গাঁজার একটি পুরিয়া ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এসময় তার আর্তচিৎকারে গ্রামের লোকজন ছুটে এলে সন্ত্রাসীদের হুমকিতে তারা হাসিনাকে উদ্ধার করতে সাহস পায়নি। এ অবস্থায় তাকে ও তার স্বামীকে বেদম মারপিট করে। এসময় হাসিনার মেয়ে হাফেজা খাতুন মহাদেবপুর থানায় গেলে এসআই ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসিনা ও তার স্বামীকে উদ্ধার করেন। পরে তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এব্যাপারে থানায় কোন মামলা রেকর্ড করা হয়নি।
পরে জানতে চাইলে আব্দুল মতিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আজকে যে বিষয়টি নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে সেটা তাদের পারিবারিক বিষয়। তারা চাচাতো, জেঠাতো ভাইয়ের গন্ডগোল। এটা রাজনৈতিভাব হেনস্থা প্রমাণ করার জন্য আমার উপরে নিয়ে আসছে।
এসআই মহিদুল ইসলাম জানান, তিনি অন্য একটি মামলার তদন্তে গিয়েছেন। ফিরে এসে এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।
মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, এব্যাপারে থানায় কোন অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
/ইউএমএইচ