সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ডুমুরিয়া খেয়াঘাটে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাটে প্রতিদিন যাতায়াতকারী হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
২০০৯ সালে বুড়িগোয়ালিনী অংশের খেয়াঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পার হলেও সেই ঘাটটি এখনও পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। ফলে দুই ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতে নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমানে ডুমুরিয়া ঘাটেও একই ধরনের ভাঙন শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজি নজরুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় নদী ভাঙনপ্রবণ এলাকায় আমাদের প্রতিনিয়ত এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ডুমুরিয়া খেয়াঘাটটিতে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এবারের বর্ষা মৌসুমের আগে বরাদ্দ পেলে খেয়াঘাটটি সংস্কার করা হবে বলেও জানান বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজি নজরুল ইসলাম।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়ুথ প্ল্যান বাংলাদেশের বিভাগীয় সমন্বয়কারী ইমাম হোসেন বলেন, প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই ঘাট ব্যবহার করেন। ভাঙনের কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সংস্কার ও টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়ুথ প্লান বাংলাদেশের বিভাগীয় সমন্বয়কারী ইমাম হোসেন।
সরজমিনে কথা হয় এলাকাবাসীর সঙ্গে। এ সময় তারা জানান, ডুমুরিয়া ঘাটটিতে ভাঙন দেখা দেওয়ায় ভীষণ দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন এই ঘাটের যাত্রীরা। তারা বলছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
গাবুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ডুমুরিয়া খেয়াঘাটটি গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৯ সালে বুড়িগোয়ালিনী পাশের ঘাট ভেঙে যাওয়ার পরও সেটির স্থায়ী সমাধান হয়নি। গাবুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা ইয়াসিন আরাফাত আরও বলেন, এখন ডুমুরিয়া ঘাটটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, ঘাটটি দ্রুত সংস্কার ও নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তাই জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
সময়ের আলো/জেডি