আজ ১৪ জুন, বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। মানবতার সেবায় আত্মনিবেদনের অন্যতম মাধ্যম স্বেচ্ছায় রক্তদান। একজন মানুষের দেওয়া সামান্য রক্ত অন্য একজনের জীবন বাঁচাতে পারে, ফিরিয়ে দিতে পারে আশার আলো।
বিশ্বজুড়ে এ দিনটি পালন করা হয় স্বেচ্ছায় রক্তদানে মানুষকে উৎসাহিত করা, রক্তদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং নিরাপদে রক্তদানের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে।
ইসলামে মানুষের জীবন রক্ষা ও মানবকল্যাণের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতের মতো ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি মানুষের উপকার করা, বিপদ্গ্রস্তের পাশে দাঁড়ানো এবং জীবন রক্ষায় সহযোগিতা করাও মহান আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় আমল। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে স্বেচ্ছায় রক্তদান শুধু একটি মানবিক কাজই নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মহৎ ইবাদতও বটে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, প্রকৃত সৎকর্ম শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অভাবগ্রস্ত, এতিম, মুসাফির ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত নেকির পরিচয় (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৭৭)।
আর যে ব্যক্তি একজন মানুষের জীবন রক্ষা করে, সে যেন সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষা করল (সুরা মায়িদা, আয়াত : ৩২)।
বর্তমানে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির কারণে রক্ত ও প্লাটিলেটের চাহিদা বেড়েছে। এ অবস্থায় সুস্থ ও সক্ষম মানুষের স্বেচ্ছায় রক্তদান অসংখ্য রোগীর জীবন বাঁচাতে পারে। ইসলামে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে, কোনো বিনিময় ছাড়া এবং নিজের স্বাস্থ্যের ক্ষতি না করে রক্তদান করা বৈধ ও সওয়াবের কাজ বলে আলেমরা মত দিয়েছেন (ফাতাওয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত, ১১/৪৩৬)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের কষ্ট দূর করে, আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন তার কষ্ট দূর করবেন (সহিহ মুসলিম : ৬৭৪৬)।
এমনকি একটি তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করানোর কারণে এক নারী আল্লাহর ক্ষমা লাভ করেছিলেন (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৩২১)।
তাই বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক— মানবতার কল্যাণে, আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় এবং জীবন বাঁচানোর মহান উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে মানবসেবার এ মহৎ কাজে অংশগ্রহণের তাওফিক দান করুন।
/এসএকে