মানুষের জীবনের সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা অনেক সময় নির্ধারিত হয় শরীরের ছোট দুটি অঙ্গের ব্যবহারের মাধ্যমে। অঙ্গ দুটি হলো—জিহ্বা (মুখ) ও লজ্জাস্থান। দেখতে ছোট হলেও এ দুটির প্রভাব অত্যন্ত গভীর। সঠিকভাবে এগুলোর হেফাজত করতে পারলে মানুষ জান্নাতের পথে হাঁটবে, আর অপব্যবহার তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে। তাই ইসলাম আত্মসংযম ও চরিত্র গঠনের ক্ষেত্রে এ দুটির সুরক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘মানুষের সবচেয়ে বেশি জান্নাতে প্রবেশের কারণ হলো আল্লাহভীতি ও উত্তম চরিত্র। আর সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে প্রবেশের কারণ হলো মুখ ও লজ্জাস্থানের অপব্যবহার।’ (মিশকাত, হাদিস : ৪৬২১)
জিহ্বা মানুষের জন্য যেমন কল্যাণের মাধ্যম, তেমনি ধ্বংসেরও কারণ হতে পারে। মিথ্যা, গিবত, অপবাদ, চোগলখুরি, কটূক্তি ও অশ্লীল কথাবার্তা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্য ক্ষতিকর। একইভাবে লজ্জাস্থানের অপব্যবহার নৈতিক অবক্ষয়, অশ্লীলতা, পারিবারিক অস্থিরতা এবং সামাজিক বিপর্যয়ের জন্ম দেয়।
তাই নবীজি (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার জিহ্বা ও লজ্জাস্থানের হেফাজতের নিশ্চয়তা দেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪৭৪)
বর্তমান সময়ে পরনিন্দা, মিথ্যাচার, বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য এবং দ্বিমুখী আচরণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
এ বিষয়ে সতর্ক করে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি হবে সেই দ্বিমুখী মানুষ, যে এক দলের কাছে এক রূপে এবং অন্য দলের কাছে অন্য রূপে উপস্থিত হয়।’ (বুখারি)
তাই প্রত্যেক মুমিনের উচিত নিজের কথাবার্তায় সংযমী হওয়া, জিহ্বাকে পাপ থেকে রক্ষা করা এবং চরিত্রকে পবিত্র রাখা। কারণ সামান্য অসতর্কতা মানুষকে জাহান্নামের পথে নিয়ে যেতে পারে, আর সামান্য আত্মসংযম ও তাকওয়া হতে পারে জান্নাত লাভের মহান উপায়।
/এসএকে