অবৈধ সম্পদে ইবাদত কবুল হয় না

আলমগীর ওসমান

ইসলাম

মুসলমানের যাপিত জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই ইবাদতের সূত্রে গাথা। ইবাদত ছাড়া পরকালে মুক্তি নেই। আর ইবাদত কবুলের জন্য প্রধানতম শর্ত হচ্ছে

2026-06-15T11:38:43+00:00
2026-06-15T11:38:43+00:00
 
  সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬,
১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
ইসলাম
অবৈধ সম্পদে ইবাদত কবুল হয় না
আলমগীর ওসমান
প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম   (ভিজিট : ১৬)
গ্রাফিক : সময়ের আলো
মুসলমানের যাপিত জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই ইবাদতের সূত্রে গাথা। ইবাদত ছাড়া পরকালে মুক্তি নেই। আর ইবাদত কবুলের জন্য প্রধানতম শর্ত হচ্ছে হালাল উপায়ে জীবন কাটানো। ইসলামের দৃষ্টিতে হালাল উপায়ে উপার্জন করাও বড় ইবাদত। নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত যেমন ফরজ ইবাদত, তেমনি হালাল উপায়ে উপার্জন করাও ফরজ ইবাদত। এ ব্যাপারে হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘হালাল উপার্জন করাও অন্যান্য ফরজের পর একটি ফরজ কাজ’ (বায়হাকি, শুআবুল ঈমান : ৮৭৪১)। হালাল গ্রহণ করা আল্লাহ তায়ালার হুকুম। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মানুষ! পৃথিবীতে হালাল যা রয়েছে তা থেকে আহার করো। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সুরা বাকারা : ১৬৮)

ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত

ইবাদত কবুলের জন্য হালাল খাদ্যগ্রহণ অন্যতম শর্ত, অর্থাৎ অসৎ উপায়ে অর্জিত সম্পদ ব্যবহার করে ইবাদত করলে তা কবুল হবে না। হাদিসে এসেছে, হজরত ইবনে ওমর (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দশ দিরহাম দিয়ে কোনো বস্ত্র ক্রয় করে এবং সেই দশ দিরহামের মধ্যে একটি দিরহামও হারাম হয়, যতক্ষণ সেই বস্ত্র তার পরিধানে থাকবে ততক্ষণ তার নামাজ কবুল হবে না’ (মুসনাদে আহমদ : ৫৭৩২)। অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে সত্তার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ তাঁর কসম, নিশ্চয় কোনো বান্দার পেটে যদি এক লোকমাও হারাম খাবার প্রবেশ করে, চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার ইবাদত কবুল হবে না। আর যে রক্ত-মাংস হারাম সম্পদ বা সুদের টাকায় বৃদ্ধি হয়েছে তার জন্য জাহান্নামই উত্তম।’ (আলমুজামুল আওসাত : ৬৪৯৫; আত তারগিব ওয়াত তারহিব : ২৬৬০)

দোয়া কবুলের পূর্বশর্ত 

দোয়া মুমিনের হাতিয়ার। দুঃসময়ের একমাত্র অবলম্বন। দোয়ার মাধ্যমে মানুষ যাপিত জীবনের প্রয়োজন মহান আল্লাহর কাছে পেশ করে। তিনিও বান্দার যাবতীয় আশা-আকাক্সক্ষা পূরণ করেন। তবে তাঁর দরবারে বান্দার আরাধনা কবুল হতে হলে উপার্জন হালাল হতে হবে। এ মর্মে নবীজি (সা.) বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা পবিত্র। তিনি শুধু পবিত্র বস্তুই কবুল করেন। তিনি মুমিনদের সেই আদেশই দিয়েছেন, যে আদেশ দিয়েছেন নবী-রাসুলকে। 


আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা পবিত্র বস্তু আহার করো। যেগুলো আমি তোমাদের রুজি হিসেবে দান করেছি।’ অতঃপর নবীজি (সা.) এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন, যে দীর্ঘ সফরে থাকা অবস্থায় এলোমেলো চুল ও ধূলিধূসরিত ক্লান্ত-শ্রান্ত বদনে আকাশের দিকে হাত তুলে প্রার্থনা করে ডাকছে, হে আমার প্রভু! হে আমার প্রভু! অথচ সে যা খায় তা হারাম, যা পান করে তা হারাম, যা পরিধান করে তা হারাম এবং হারামের দ্বারা সে পুষ্টি অর্জন করে, তার প্রার্থনা কীভাবে কবুল হবে? (মুসলিম : ১০১৫)। অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, নবীজি (সা.)-এর কাছে এ আয়াত তেলাওয়াত করা হলো, ‘হে লোকসব, তোমরা পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তুসামগ্রী ভক্ষণ করো’ (সুরা বাকারা : ১৬৮)। তখন সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.) আপনি আমার জন্য দোয়া করুন যেন আল্লাহ আমাকে ‘মুস্তাজাবুদ দাওয়া’ (দোয়া করলেই কবুল হয় এমন ব্যক্তি) বানিয়ে দেন। তখন নবীজি (সা.) বললেন, হে সাদ, তুমি তোমার খাবারকে পবিত্র রাখো (হালাল ভক্ষণ করো), তবেই তুমি ‘মুস্তাজাবুত দাওয়া’ হয়ে যাবে। (আলমুজামুল আওসাত : ৬৪৯৫; আত তারগিব ওয়াত তারহিব : ২৬৬০)

আমানতদার ব্যবসায়ীর পুরস্কার

ইসলামে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। সৎ, আমানতদার, ন্যায়পরায়ণ, ধোঁকামুক্ত ও জনকল্যাণমুখী ব্যবসায়ীদের প্রশংসায় অনেক হাদিস বিদ্যমান। এ ধরনের ব্যবসায়ীকে নবীজি (সা.) নবী, সিদ্দিক, শহিদদের সমমর্যাদাপূর্ণ আখ্যা দিয়েছেন। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘সততা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে যে ব্যক্তি ব্যবসা করে কেয়ামতের দিন সে নবী-রাসুল, সিদ্দিক ও শহিদদের সঙ্গী হবে’ (তিরমিজি : ১২০৯)। এ কারণে সাহাবিরা এমন সততা ও আমানতদারির সঙ্গে ব্যবসা করেছেন যে, মানব ইতিহাসে তার নমুনা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এ পবিত্র ধারা পরবর্তী বহুকাল পর্যন্ত রক্ষিত ছিল। কিন্তু আফসোস, ধীরে ধীরে উম্মতের ইবাদতে যেমন অধঃপতন এসেছে, তেমনি লেনদেনের ক্ষেত্রেও অধঃপতন নেমে এসেছে। যেন হাদিসের ভবিষ্যৎ বাণী বাস্তব হতে চলেছে, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘লোকদের মধ্যে এমন একটি সময় আসবে, মানুষ এই কথার পরোয়াই করবে না যে, এই বস্তুটি অর্জন করেছ হালাল থেকে, না হারাম থেকে।’ (বুখারি : ২০৫৯)

অবৈধ পথে উপার্জনকারীর শাস্তি

মনে রাখতে হবে, হারামে আরাম নেই। না দুনিয়াতে, না আখেরাতে। হারামের পরিণাম দুনিয়ায় অশান্তি, আখেরাতে জাহান্নাম। হাদিসে এসেছে, হজরত জাবের (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) কাব ইবনে ওজরাকে বলেছেন, ‘যে দেহের অস্থি-মজ্জা হারাম সম্পদ দ্বারা প্রতিপালিত হয়েছে তা কখনো বেহেশতে প্রবেশ করবে না এবং একমাত্র দোজখই হবে তার জন্য সঠিক স্থান’ (মেশকাত : ২৭৭২২)। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে হালাল উপায়ে উপার্জন করার এবং হারাম উপার্জন থেকে বেঁচে থাকার তওফিক দান করুন।

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   ইসলাম  অবৈধ সম্পদ 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: