প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৫:৩৬ পিএম (ভিজিট : ২১)
বিভিন্ন দেশের পতাকা কিনতে ভিড় করছেন ফুটবলপ্রেমীরা। ছবি : সময়ের আলো
ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে শুরু হয়েছে সমর্থকদের উন্মাদনা। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে বিভিন্ন দেশের পতাকা কিনতে ভিড় করছেন ফুটবলপ্রেমীরা। বিশেষ করে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, পর্তুগাল ও ফ্রান্সের পতাকার চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
জেলার নিকলী উপজেলার বিভিন্ন বাজার, ফুটপাত, রাস্তার মোড় ও অস্থায়ী দোকানে রঙিন পতাকা বিক্রি করতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের। ছোট আকার থেকে শুরু করে ভবন ও ছাদে টাঙানোর জন্য বড় আকারের পতাকাও বিক্রি হচ্ছে। এর পাশাপাশি জার্সি, হেডব্যান্ড, ক্যাপ ইত্যাদিও বিক্রি হচ্ছে ব্যাপকহারে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিক্রি বাড়তে শুরু করেছে। প্রতিদিনই ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। অনেকে আগেভাগেই পছন্দের দলের পতাকা কিনে বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে টাঙিয়ে দিয়েছেন।
পতাকা তৈরিতে ব্যস্ত দর্জি।
নিকলী উপজেলার পতাকা বিক্রেতা মো. সোহেল রানা বলেন, ‘বিশ্বকাপ এলেই আমাদের ব্যবসা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এবারও আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিন শতাধিক পতাকা বিক্রি হচ্ছে।’
আরেক ব্যবসায়ী আব্দুল আলী বলেন, ‘সারা বছর অন্য ব্যবসা করলেও বিশ্বকাপ এলেই পতাকা বিক্রি করি। এতে বাড়তি আয় হয়। ছোট পতাকা ৫০ থেকে ১৫০ টাকা এবং বড় পতাকা ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছি। তরুণদের মধ্যে উৎসাহ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।’
ফুটবল প্রেমী আল আমিন হাসান বলেন, ‘আমি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার, প্রিয় দলের পতাকা টাঙিয়ে সমর্থন জানাতে ভালোলাগে। খেলা শুরু হওয়ার আগেই আমরা বন্ধুদের নিয়ে এলাকার বিভিন্ন স্থানে পতাকা লাগিয়েছি।’
এদিকে উপজেলা শহরের বিভিন্ন দোকান ও ফুটপাত ঘুরে জার্সির বিপুল সমাহার দেখা গেল। কেউ নিজের জন্য কিনছেন, কেউ সন্তানের জন্য। কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখার প্রস্তুতি হিসেবে জার্সি সংগ্রহ করছেন।
তেরিপট্টি এলাকায় অবস্থিত ফ্যাশন বাজ দোকানে ঢুকতেই চোখে পড়ে জার্সির স্তূপ। একের পর এক ক্রেতা এসে জার্সি দেখছেন, কিনছেন। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সাজ্জাদ হোসেন পাপ্পু ও মনির হোসেন বলেন, ‘বিশ্বকাপ এলেই জার্সির বাজার জমে ওঠে। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনার জার্সি। এরপর ব্রাজিল, ফ্রান্স ও স্পেন।’
জার্সি বিক্রেতা লিংকন বলেন, ‘আমাদের দোকানে চীন ও বাংলাদেশে তৈরি জার্সি পাওয়া যায়। তবে এবার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে খেলোয়াড়ের নাম ও নম্বর লেখা জার্সি। বিশেষ করে মেসি, নেইমার, এমবাপ্পে ও রোনালদোর নাম লেখা জার্সির চাহিদা বেশি। মেসির জার্সিই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। মেসি লেখা ১০ নম্বর জার্সি হলেই বিক্রির গ্যারান্টি আছে।’
বিশ্বকাপ এলেই পতাকা বিক্রেতাদের বিক্রি বেড়ে যায়।
একসময় জার্সির বাজারে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে ঘিরে। এখন সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে ফ্রান্স ও স্পেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ দুই দলের সাফল্যের কারণে তরুণদের মধ্যে তাদের সমর্থকও বেড়েছে।
জেলার এক সময়কার তারকা ফুটবলার ও পরবর্তীতে কোচ লিংকন দাস বলেন, ‘মেসির কারণে আর্জেন্টিনার জনপ্রিয়তা এখনও সবচেয়ে বেশি। তবে নতুন প্রজন্মের অনেকেই স্পেন ও ফ্রান্সের জার্সি খুঁজছেন। তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতি আগ্রহও বাড়ছে।’
এদিকে, ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে রখখলা তেরিপট্টি, গৌরাঙ্গবাজার ও একরামপুর এলাকা জার্সির জন্য এক পরিচিত ঠিকানা। এইসব এলাকায় রয়েছে ছোট-বড় অর্ধশতাধিক ক্রীড়াসামগ্রীর দোকান। ক্রিকেট ব্যাট-বল, ফুটবল, বুট, গ্লাভস, ট্র্যাকস্যুট থেকে শুরু করে খেলাধুলার প্রায় সব সরঞ্জামই পাওয়া যায় এখানে।