ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনেক রেকর্ডই গড়েছেন লিওনেল মেসি। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই তিনি এমন এক কীর্তি গড়লেন, যা আগে কোনো ফুটবলার করতে পারেননি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমে বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে অংশ নেওয়া প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
বুধবার (১৭ জুন) আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর দিনটি তাই শুধুই একটি ম্যাচের গল্প নয়; এটি মেসির দীর্ঘ দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আরেকটি স্বর্ণালি অধ্যায়। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে ছয়টি আসরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেলেন তিনি।
বিশ্বকাপের রেকর্ডের পাশাপাশি জাতীয় দলের জার্সিতেও স্পর্শ করেছেন আরেকটি বিরল মাইলফলক। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ২০০তম ম্যাচ। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০০ ম্যাচ খেলা বিশ্বের মাত্র তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে নিজের নাম যুক্ত করলেন তিনি।
আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়ার খেলা শুরুবিশ্বকাপে মেসির প্রভাব শুধু উপস্থিতিতেই সীমাবদ্ধ নয়। টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও তার দখলে। ছয়টি বিশ্বকাপ মিলিয়ে ম্যাচসংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে তার সামনে, যা ভবিষ্যতে অন্যদের জন্য আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
গোলের দিক থেকেও নতুন ইতিহাসের হাতছানি পাচ্ছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপে তার ঝুলিতে রয়েছে ১৩ গোল। সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করতে আর খুব বেশি দূরে নন তিনি। একই সঙ্গে পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার বিরল কীর্তিও গড়তে পারেন এই আসরেই।
অ্যাসিস্টের তালিকাতেও মেসি আছেন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার পাশে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল করানোর রেকর্ড বর্তমানে দুজনেরই যৌথ দখলে। চলতি আসরে একটি অ্যাসিস্ট করলেই সেই রেকর্ড এককভাবে নিজের করে নেবেন তিনি।
তবে ব্যক্তিগত অর্জনের বাইরেও মেসির সামনে রয়েছে আরও বড় লক্ষ্য। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এবারও তার নেতৃত্বে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নেমেছে আর্জেন্টিনা। যদি দলকে আবারও চ্যাম্পিয়ন করতে পারেন, তাহলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে অধিনায়ক হিসেবে দুইবার শিরোপা জেতা প্রথম ফুটবলার হবেন তিনি।
এএডি/