নড়াইলে ভাতিজির বিয়ের আনন্দের আলো মুহূর্তেই রূপ নিল এক ট্রাজিক বিষাদে। বিয়ের গেটে বরকে মিষ্টি মুখ করিয়ে বরণ করে নেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পর্শে নকুল মল্লিক (৫২) নামের এক ব্যক্তির করুণ মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের মুশুড়িয়া গ্রামে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত নকুল মল্লিক ওই গ্রামের বাসিন্দা সতীশ চন্দ্র মল্লিকের ছেলে। তিনি সম্পর্কে কনের আপন চাচা।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে মুশুড়িয়া গ্রামে নকুল মল্লিকের ভাতিজির বিয়ের জমকালো আয়োজন চলছিল। পুরো বাড়ি সাজানো হয়েছিল আলোকসজ্জায়। রাত ৮টার দিকে একই উপজেলার ধোপাখোলা এলাকা থেকে বরযাত্রীবাহী গাড়ি কনের বাড়িতে এসে পৌঁছায়। বর আসার খবরে বিয়ে বাড়িতে আনন্দের ধুম পড়ে যায়।
আরও পড়ুন
ঐতিহ্য ও নিয়ম অনুযায়ী বরকে স্বাগত জানাতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কনের চাচা নকুল মল্লিকও বিয়ের প্রধান গেটে এগিয়ে যান। গেটে বরকে মিষ্টি মুখ করানোর শুভ মুহূর্তটিতে ঘটে চরম বিপর্যয়। বরকে মিষ্টি খাওয়ানোর সময় অসাবধানতাবশত গেটের তোরণ ও আলোকসজ্জায় ব্যবহৃত একটি লিক (ত্রুটিপূর্ণ) বিদ্যুতের তারে নকুল মল্লিকের হাত লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি তীব্রভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান।
হঠাৎ এই ঘটনায় বিয়ে বাড়ির আনন্দ-উচ্ছ্বাস মুহূর্তে চিৎকার আর কান্নায় ভেঙে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নকুল মল্লিককে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ধারণা, হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বেই তার মৃত্যু হয়েছে।
খবর পেয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এই অসাবধানতামূলক দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
এদিকে এই ঘটনার পর কনের বাড়িতে বিয়ের সানাইয়ের সুর থেমে গিয়ে এখন চলছে স্বজনদের আহাজারি। শুধু ওই পরিবারেই নয়, বরযাত্রী ও পুরো মুশুড়িয়া গ্রামসহ আশেপাশের এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। একটি শুভ অনুষ্ঠান এভাবে বিষাদে পরিণত হওয়ায় স্তব্ধ হয়ে গেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এএডি/