আঙুর চাষে প্রথম বছরেই বাজিমাত

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

সারাদেশ

সাধারণত আঙুর চাষের কথা উঠলেই চোখে ভেসে ওঠে বিদেশের বিস্তীর্ণ বাগান কিংবা দেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল। তবে সেই প্রচলিত ধারণা

2026-06-20T13:41:30+00:00
2026-06-20T16:15:33+00:00
 
  বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬,
১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
সারাদেশ
আঙুর চাষে প্রথম বছরেই বাজিমাত
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১:৪১ পিএম  আপডেট: ২০.০৬.২০২৬ ৪:১৫ পিএম
নিজের বাগানে আব্দুল আজিজ। ছবি : সময়ের আলো
সাধারণত আঙুর চাষের কথা উঠলেই চোখে ভেসে ওঠে বিদেশের বিস্তীর্ণ বাগান কিংবা দেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল। তবে সেই প্রচলিত ধারণা বদলে দিয়েছেন নাটোরের সিংড়ার এক কৃষিপ্রেমী শিক্ষক। শখের বসে শুরু করা আঙুর চাষই এখন তার সাফল্যের নতুন গল্প। ইউটিউব দেখে শেখা সেই উদ্যোগ আজ পরিণত হয়েছে সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক বাগানে।

নাটোরের সিংড়া উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের কৃষি শিক্ষক আব্দুল আজিজ। ছাত্রজীবন থেকেই কৃষির প্রতি ছিল প্রবল আগ্রহ। পটল, ড্রাগন, আপেল কুল কিংবা ভারত কুল চাষে আগেই সফলতা পেয়েছেন তিনি। তবে এবার নতুন স্বপ্ন দেখছেন আঙুর নিয়ে।

মাত্র ৯ মাস আগে বাড়ির পাশের প্রায় ১ বিঘা পতিত জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে লাগান কয়েকটি আঙুরের চারা। ইউটিউব থেকে চাষাবাদের কৌশল শিখে ধীরে ধীরে গাছের পরিচর্যা শুরু করেন। শুরুতে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধৈর্য, পরিশ্রম ও পরিকল্পনায় মিলেছে সফলতা।


আজিজের বাগান এখন বাইকুনুর, সামার রয়েল, ডিক্সন, গ্রিন লং ও ব্ল্যাক ম্যাজিক জাতের আঙুরে ভরে উঠেছে। প্রতিটি গাছেই ঝুলছে থোকায় থোকায় ফল। প্রথমদিকে শখের বসে বাড়ির আঙিনায় মাত্র ৪টি বাইকুনুর জাতের চারা রোপণ করেছিলেন তিনি। পরিচর্যার পর একটি গাছ থেকেই পান ৭ থেকে ৮ কেজি আঙুর। সেই সাফল্যই বদলে দেয় তার ভাবনা। পরে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের উদ্যোগ নেন এই শিক্ষক।

আব্দুল আজিজ বলেন, ‘শুরুতে এটা শুধু শখ ছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এটি একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। সঠিক পরিচর্যা ও পরিকল্পনা থাকলে আমাদের দেশেও আঙুর চাষ সম্ভব। বাজার ভালো থাকলে এবার প্রায় ৯ লাখ টাকার আঙুর বিক্রির আশা করছি।’

এবার ৯ লাখ টাকার আঙুর বিক্রির আশা করছেন আব্দুল আজিজ।

এবার ৯ লাখ টাকার আঙুর বিক্রির আশা করছেন আব্দুল আজিজ।


আজিজের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিনই বাগানে ভিড় করছেন স্থানীয় কৃষক ও উৎসুক মানুষজন। অনেকেই তার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন, কিনছেন চারাগাছও। স্থানীয়রা বলছেন, ‘এভাবে আঙুর চাষ সম্প্রসারণ হলে একসময় নাটোরের চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্য জেলাতেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।’

বাগানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন, ‘ভিডিওতে আঙুর চাষ দেখেছি, কিন্তু এখানে এসে সরাসরি এত আঙুর দেখে খুব ভালো লাগছে। আমরাও চারা নিয়ে বাড়িতে লাগানোর চিন্তা করছি।’

সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ হাসান বলেন, ‘গত বছরও সিংড়ায় পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষে সফলতা পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বাইকুনুর, সামার রয়েল, ডিক্সন, গ্রিন লং ও ব্ল্যাক ম্যাজিক জাতের আঙুরের ফলন ছিল বেশ আশাব্যঞ্জক। আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে দেশের বিভিন্ন এলাকাতেই বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।’

দেশের মাটিতেও যে সফলভাবে আঙুর উৎপাদন সম্ভব, তা প্রমাণ করেছেন সিংড়ার বাহাদুরপুর গ্রামের শিক্ষক আব্দুল আজিজ। তার এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।

সময়ের আলো/মহু



  বিষয়:   আঙুর  চাষ  নাটোর 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: