চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডের ৮ দিন অতিবাহিত হলেও মূল আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও রাউজানের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের পেছনে চিহ্নিত ভাড়াটে সন্ত্রাসী চক্র জড়িত, যাদের অর্থায়ন ও পরিচালনা করা হচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে।
শনিবার (২০ জুন) সকালে রাঙ্গুনিয়ার বেতাগীতে নিহত যুবদল নেতা মাসুদের কবর জিয়ারত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, ‘মাসুদ আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহকর্মী ছিল। তাকে যেভাবে নৃশংসভাবে সরিয়ে দেওয়া হলো, তা চট্টগ্রামের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবক্ষয়কে নির্দেশ করে।’
চট্টগ্রাম অঞ্চলের অপরাধচিত্র তুলে ধরে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, ‘এই ফ্যাসিবাদী ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা চট্টগ্রামের আনাচে-কানাচে সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। তারা শুধু রাঙ্গুনিয়ার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেই জড়িত নয়; রাউজান এবং চট্টগ্রাম মহানগরের একাধিক খুনের ঘটনার পেছনেও এই একই চক্র কাজ করছে। এরা মূলত টাকার বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হয়ে যেখানে-সেখানে খুন-খারাবি করে বেড়াচ্ছে।’
তদন্তের পরিধি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সুতা কোথা থেকে নাড়ানো হচ্ছে, তা সরকারের গভীর তদন্তের মাধ্যমে উন্মোচন করতে হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এদের মূল চালিকাশক্তি ও অর্থায়ন আসছে সীমান্তের ওপার থেকে। স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনও এই বিষয়ে বহুলাংশে ওয়াকিবহাল বলে আমার ধারণা।’
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ৮ দিন পেরিয়ে গেলেও মূল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে না পারায় নিহতের পরিবার এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, হত্যাকাণ্ডটি পেশাদার খুনিদের দ্বারা সংঘটিত হলেও, স্থানীয় বেতাগী এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগসাজশ ও সুনির্দিষ্ট তথ্য সরবরাহ ছাড়া এই ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়। তারা অনতিবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য রূপকারদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এই সংসদ সদস্য পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘একটি মূল্যবান প্রাণ ঝরে গেছে, তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে চট্টগ্রাম, বিশেষ করে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া এবং মহানগরে আর কোনো জাতীয়তাবাদী সৈনিককে যেন এভাবে অপমৃত্যুর শিকার হতে না হয়, প্রশাসনকে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এই খুন-খারাবির রাজনীতির এখানেই ইতি টানতে হবে।’
এ সময় গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ হালিম, মরহুম মাসুদের বড় ভাই স্বপন চেয়ারম্যান, নিজামুল হক তপন, রাউজান উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম নুরুল হুদা চেয়ারম্যান, ফিরোজ আহম্মদ, প্রবীণ নেতা হাবিবুল্লাহ মাস্টার, চেয়ারম্যান শফি কমান্ডার, রাউজান পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আনিসুজ্জামান সোহেল, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছোটন আজম এবং ছাত্রদল নেতা লিটন মহাজন, তসলিম উদ্দিন ও ইউছুপ তালুকদারসহ স্থানীয় অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকর্মী।
এ প্রসঙ্গে রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বাদী হয়ে আট জনের নাম উল্লেখ করে, ১১ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে রাউজান থানায় হত্যা মামলা দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে খুনিদের স্পষ্ট ছবি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ, ডিবি (গোয়েন্দা শাখা) এবং র্যাবের একাধিক বিশেষ টিম ইতোমধ্যেই মাঠে নেমেছে এবং তাদের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন দুপুর দেড়টায় রাউজান উপজেলার চুয়েট সংলগ্ন পাহাড়তলী বাজারে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন যুবদল নেতা মাসুদ। একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে আসা যুবক গাড়ি থেকে নেমে প্রকাশ্য দিবালোকে মাসুদকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে বীরদর্পে পালিয়ে যায়।
সময়ের আলো/মহু