বাবা মানেই যেমন স্নেহের পরশ, তেমনই প্রয়োজনে শাসন। বাবা-সন্তানের সম্পর্কটা মধুর। এই বাবাকে ঘিরে বিশ্বের অন্যান্য চলচ্চিত্রাঙ্গনের মতো আমাদের দেশেও নির্মিত হয়েছে অনেক সিনেমা। এর অধিকাংশই হয়েছে ব্যবসা সফল। আজকে বাবা দিবস উপলক্ষে ঢালিউডের বেশ কয়েকটি সিনেমা নিয়ে এই প্রতিবেদন।
বাবা কেন চাকর : বাবাকেন্দ্রিক সিনেমার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে ‘বাবা কেন চাকর’। এখানে আদর্শবাদী এবং বৃদ্ধ বয়সে সন্তান দ্বারা নিপীড়িত বাবার চরিত্রে অভিনয় করেন রাজ্জাক। ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাটি ব্যবসা সফল হয়। সিনেমাটির পরিচালক ছিলেন রাজ্জাক এবং প্রযোজনায় ছিল রাজলক্ষ্মী প্রোডাকশন।
দ্য ফাদার : বাংলাদেশে নির্মিত বাবাকেন্দ্রিক ক্ল্যাসিক সিনেমা ‘দ্য ফাদার’। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাতে বিদেশি শ্বেতাঙ্গ জন বাংলাদেশের একটি শিশুকে লালন-পালন করেন পিতৃস্নেহে। খুকু বড় হয়ে উঠলে বাবা-কন্যার সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দেয়। খুকুর ভূমিকায় সুচরিতা এবং জনের ভূমিকায় জন নেপিয়ার এডামস অভিনয় করেন। এ সিনেমায় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ‘আয় খুকু আয়’ গানটি দারুণ জনপ্রিয়তা পায়।
পিতা : মাসুদ আখন্দ পরিচালিত ‘পিতা’ সিনেমাটি গ্রামীণ পটভূমিতে মুক্তিযুদ্ধের কাহিনিকে ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। যুদ্ধের সময় পরিবার ও সন্তানদের বাঁচাতে একজন বৃদ্ধ বা বার প্রাণপণ চেষ্টা তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০১২। অভিনয় করেছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, কল্যাণ কোরাইয়া, শায়না আমিন, শামীমা নাজনীন ও বন্যা মির্জাসহ অনেকে।
বাপ বেটির যুদ্ধ : সমাজ ও পরিবারের বিভিন্ন টানাপোড়েন, বাবা-মেয়ের আবেগপূর্ণ সম্পর্ক এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গল্প তুলে ধরা হয়েছে বাপ বেটির যুদ্ধ সিনেমায়। দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০০৮ সালে। এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন রাজ্জাক, আলমগীর, শাকিব খান ও পপি।
জন্ম থেকে জ্বলছি : স্ত্রী থেকে বিচ্ছিন্ন স্বামী একক বাবা হিসেবে শিশুসন্তানকে বড় করে তোলার গল্প বলা হয়েছে ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’ সিনেমায়। আমজাদ হোসেন পরিচালিত এই সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৮৩ সালে। সিনেমাটিতে প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন বুলবুল আহমেদ ও ববিতা। এ সিনেমার ‘বাবা বলে গেল’ গানটি তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।
কাবুলীওয়ালা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প অবলম্বনে নির্মিত মান্না অভিনীত ‘কাবুলীওয়ালা’ সিনেমায় শ্বাশত পিতৃত্বের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। কাজী হায়াৎ পরিচালিত এই সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। আরও অভিনয় করেন সুব্রত, দোয়েল ও ব্লাক আনোয়ার প্রমুখ। সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০০৬ সালে।
দীপু নাম্বার টু : কিশোর দীপু দারুণ সাহসী। নতুন স্কুলে গিয়ে অসাধারণ আর অদ্ভুত কিছু বন্ধু পায় ও। আর ওদের নিয়েই দীপু জড়ায় দুর্ধর্ষ এক অ্যাডভেঞ্চারে। গল্পের মূল কাহিনি এটাই। তবে দীপুর বাবাই ওর জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই সিনেমায় একক বাবার সঙ্গে তার সন্তানের সম্পর্ক গুরুত্ব পেয়েছে। মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তিপায় ১৯৯৬ সালে। অভিনয় করেছেন বুলবুল আহমেদ, ববিতা, আবুল খায়ের, গোলাম মুস্তাফা প্রমুখ।
বাপ বেটা ৪২০ : ১৯৯১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি জনপ্রিয় বাংলাদেশি কমেডি-অ্যাকশন সিনেমা ‘বাপ বেটা ৪২০’। পরিচালক আজিজুর রহমানের পরিচালনায় এই সিনেমায় বাবার চরিত্রে এটিএম শামসুজ্জামান ও ছেলের চরিত্রে ইলিয়াস কাঞ্চন অভিনয় করেন। আরও অভিনয় করেন মান্না ও চম্পাসহ অনেকে। মুক্তির পর সিনেমাটি ব্যবসায়িক সফল হয়।
পিতা-পুত্র : আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘পিতা-পুত্র’ সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৭০ সালে। পারিবারিক ও সামাজিক টানাপোড়েনের গল্পের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই সিনেমাটি সেই সময়ে বেশ দর্শকপ্রিয়তা লাভ করেছিল। এতে রাজ্জাক ও কবরী প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
বাবা : ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি জনপ্রিয় অ্যাকশন-ড্রামা সিনেমা ‘বাবা’। যা বাবা ও সন্তানের সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এতে অভিনয় করেন মান্না, পূর্ণিমা, মিশা সওদাগর, ময়ূরী এবং আহমেদ শরীফ।
সময়ের আলো/এসএকে