একটুখানি বৃষ্টি হলেই সড়কজুড়ে পানি

সমীরণ রায়

জাতীয়

রাজধানী ঢাকা শহরকে নদী ও খালের শহর বলা হলেও এখন আর সেই ঐতিহ্য নেই। শহরের চারপাশে নদী আর ভেতরে বিস্তৃত

2026-06-21T04:46:55+00:00
2026-06-21T04:46:55+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
জাতীয়
দখলদারদের কবলে রাজধানীর খাল
একটুখানি বৃষ্টি হলেই সড়কজুড়ে পানি
সমীরণ রায়
প্রকাশ: রোববার, ২১ জুন, ২০২৬, ৪:৪৬ এএম 
দখল-দূষণে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে রাজধানীর শুভাঢ্যা খাল ছবি : সময়ের আলো
রাজধানী ঢাকা শহরকে নদী ও খালের শহর বলা হলেও এখন আর সেই ঐতিহ্য নেই। শহরের চারপাশে নদী আর ভেতরে বিস্তৃত ছিল অসংখ্য খালের নেটওয়ার্ক। এসব খাল ছিল শহরের প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ, নৌ যাতায়াতের মাধ্যম এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 

কিন্তু রাজধানীর খালগুলো দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধার না হওয়া, নগরায়ণ, ভরাট ও পরিকল্পনাহীন উন্নয়নের চাপে বিলীনের পথে জলপ্রবাহের শিরা-উপশিরা। ফলে অধিকাংশ খালই অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

এতে রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। আর যেসব খাল এখনও টিকে আছে সেগুলোর অস্তিত্বও হুমকির মুখে। অবশ্য সরকার সারা দেশে খাল খননের উদ্যোগ নিলেও ঢাকার দখল ও ভরাট হওয়া খালগুলো উদ্ধারে নেই তেমন কোনো পরিকল্পনা।

অন্যদিকে মাত্র দুই যুগ আগেও ঢাকায় খাল ছিল ৭০টিরও বেশি। এখন সে চিত্র বদলেছে, বেশিরভাগ খালই এখন বিলুপ্ত। যেগুলো কোনোভাবে টিকে আছে সেগুলোর দুই পাড়ে বসেছে ইটের পর ইট, কঠিন বর্জ্যে ভরাট হয়েছে বেশিরভাগ অংশ। 

মূলত এখন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ৩০টি আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ২৬টি খাল রয়েছে। এই ৫৬টির মধ্যে ২৬টি খালের অস্তিত্ব রয়েছে। যদিও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার দেওয়া তথ্যে এ সংখ্যায় গরমিল রয়েছে। সরকারি বিভিন্ন জরিপ ও পরিকল্পনা নথি অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীতে একসময় প্রায় ৭০ থেকে ৬৫টির মতো খালের অস্তিত্ব ছিল। সময়ের সঙ্গে এর বড় একটি অংশ ভরাট হয়ে মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা জেলা প্রশাসনের তালিকায় বর্তমানে ৫৮টি খাল চিহ্নিত করা হয়েছে। চিহ্নিত ৫৮টি খালের মধ্যে ৩৭টি খালের অংশবিশেষ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি দখল করে রেখেছে। এর মধ্যে অনেক সংকুচিত হয়ে গেছে। নেই পানির প্রবাহ। প্রায় বিলুপ্ত হয়েছে এর জীববৈচিত্র্যও। 

এসব খাল পুনরুদ্ধারে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) তাদের প্রণীত ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ২০২২-৩৫-এ এক বিস্তৃত রূপরেখা দিয়েছে। ড্যাপের প্রাক্কলিত হিসাব অনুযায়ী, জীববৈচিত্র্যসহ প্রতিটি খাল পুনরুদ্ধারে প্রয়োজন এক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা। তবে যেসব খালে ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই সেখানে ব্যয় কম হবে। 


ঢাকা জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চিহ্নিত ৫৮টি খালের মধ্যে ৩৭টির অংশবিশেষ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির দখলে রয়েছে। এসব খালের মধ্যে রয়েছে- পরিবাগ খাল, ধোলাইখাল-১ দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতু থেকে উৎপত্তি হয়ে ধোলাইখাল-২ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, ধোলাইখাল-২ বুড়িগঙ্গা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, দয়াগঞ্জ ও ওয়ারী হয়ে দয়াগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ছিল। এ খাল দুটির একটি অংশ পুরোনো ঢাকার বেগমগঞ্জ, রায়সাহেব বাজার ও বাবুবাজার দিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীতে মিলেছে। রায়েরবাজার খাল সুলতানগঞ্জ থেকে রায়েরবাজার পর্যন্ত প্রবাহিত ছিল।

বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত আরামবাগ খাল এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গোপীবাগ পর্যন্ত ছিল গোপীবাগ খাল। সেখানে এখন বক্স কালভার্ট নির্মাণ হয়েছে। বাউথার হয়ে বালু নদী পর্যন্ত প্রবাহিত ছিল গোবিন্দপুর খাল, কলাবাগান হয়ে হাতিরঝিল পর্যন্ত প্রবাহিত ছিল কাঁঠালবাগান খাল, নারিন্দা থেকে ধোলাইখাল পর্যন্ত নারিন্দা খাল এবং পান্থপথ থেকে বেগুনবাড়ী পর্যন্ত পান্থপথ খালের অস্তিত্বও বিলুপ্ত হয়েছে কালভার্ট নির্মাণের ফলে। দয়াগঞ্জ থেকে ডিএনডি নিম্নাঞ্চল পর্যন্ত ধলপুর খালটির এখন আর কোনো অস্তিত্বই নেই। সেগুনবাগিচা খাল কালভার্ট নির্মাণের ফলে পানি প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ। 

নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়কের পাশে বয়ে চলা কাজলা-কুতুবখালী খালের অবস্থা ভয়াবহ। একই অবস্থা জিয়া সরণি ও শ্যামপুরের খালেরও। কাটাসুর, হাজারীবাগ, ইব্রাহিমপুর, কল্যাণপুর, আবদুল্লাহপুর, রামচন্দ্রপুর, বাউনিয়া, দ্বিগুণ, দিয়াবাড়ী, বাইশটেকি ও শাহজাহানপুর খাল, জিরানী, মান্ডা, মেরাদিয়া-গজারিয়া, কসাইবাড়ী, শাহজাহানপুর, শাহজাদপুর, সুতিভোলা, ডুমনি, বোয়ালিয়া, রামপুরা, গোবিন্দপুর ও খিলগাঁও-বাসাবো খালের অবস্থাও তথৈবচ।

রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের (আরডিআরসি) এক গবেষণায় দেখা যায় যে, ঢাকায় ১৯৪০ থেকে ২০২৩ সবার মধ্যে গত ৮৩ বছরে ১২০ কিলোমিটার (৩০৭ হেক্টর) খাল হারিয়ে গেছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অবহেলার কারণে ৯৫টি খাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে মাত্র ১১টি খাল ও ৪টি লেক নতুন করে খনন করা হয়েছে। আর আরডিআরসি ১৮৮৮ থেকে ১৯৪০ সালের ক্যাডাস্ট্রাল জরিপগুলোকে ২০২২ সালের স্যাটেলাইট ইমেজের সঙ্গে তুলনা করেছে। 

এ ক্ষেত্রে ঢাকার ৭৭টি প্রধান খাল ও লেক চিহ্নিত করা হয়। এই জলাশয়গুলো মোট ৫৬৫ হেক্টর জায়গাজুড়ে ছিল। যার প্রায় ৫৫ ভাগই এখন হারিয়ে গেছে। হারিয়ে যাওয়া ৩০৭ হেক্টরের মধ্যে ৩৩.৭৫ শতাংশে অবকাঠামো, ১৮.৯২ শতাংশে কৃষিজমি ও ১৬.৯৪ শতাংশে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক দশকে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাশয় ভরাট, খাল দখল, নিম্নভূমির পরিবর্তিত ভূমি ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার অবক্ষয়ের কারণে পানি ব্যবস্থাপনা শুধু প্রকৌশলগত সমস্যা নয়। এই প্রেক্ষাপটে সরকারের খাল পুনর্খনন কর্মসূচি সময়োপযোগী, প্রয়োজনীয় ও জনজীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। 

ঢাকায় তালিকায় থাকলেও বাস্তবে অনেক খালের চিত্র ভিন্ন। কোথাও খাল সরু হয়ে ড্রেনে পরিণত হয়েছে। কোথাও পুরোপুরি দখল হয়ে গড়ে উঠেছে ভবন, বাজার কিংবা আবাসন প্রকল্প। দুই তীরে আবর্জনা ফেলা, পয়োবর্জ্য নির্গমন এবং অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণও খালকে ধীরে ধীরে মেরে ফেলছে।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও স্থানীয় জনগণকে শুধু উপকারভোগী হিসেবে নয় বরং রক্ষণাবেক্ষণ অংশীদার হিসেবেও যুক্ত করা উচিত। গত কয়েক দশকে ঢাকা ভয়াবহ হারে জলপথ হারিয়েছে।


গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকায় খাল ও প্রাকৃতিক ড্রেনেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বৃষ্টির পানি আটকে গিয়ে নগর বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে। একই গবেষণায় ভবিষ্যৎ ভূমি ব্যবহার পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০৪২ সালের মধ্যে ঢাকার কিছু অংশে বন্যার বিস্তার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। অর্থাৎ খাল পুনর্খনন শুধু বর্তমান জলাবদ্ধতা কমানোর জন্য নয়, ভবিষ্যৎ নগর বন্যা প্রতিরোধের জন্যও প্রয়োজনীয়।

একই গবেষণার ভবিষ্যৎ অভিক্ষেপ (প্রজেকশন) অনুযায়ী সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা না নিলে ২০৫০ সালের মধ্যে ঢাকার জলাভূমির বড় অংশ আরও কমে যেতে পারে। প্রায় ৭৪ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ জলাভূমি হ্রাসের ঝুঁকি দেখানো হয়েছে। এ কারণে জলাভূমি সংরক্ষণ অঞ্চল ঘোষণা, খালের দুই পাশে প্রতিবেশগত বাফার জোন রাখা, অবৈধ ভরাট বা স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ করা এবং নগর পরিকল্পনায় নীল-সবুজ নেটওয়ার্ক বাধ্যতামূলক করা জরুরি।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) মনে করে, খাল পুনর্খনন কর্মসূচি বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ, স্থানিক পরিকল্পনা, কৃষি উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু অভিযোজন এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই কর্মসূচিকে সফল করতে হলে এটিকে বিচ্ছিন্ন প্রকল্প নয়, বরং একটি সমন্বিত স্থানিক পরিকল্পনার কাঠামোর অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের অবস্থান হলো পানি ব্যবস্থাপনা শুধু খনন বা প্রকৌশল নয়; এটি ভূমি ব্যবহার, পরিবেশ, সমাজ, অর্থনীতি, জীবিকা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের বিষয়। সুতরাং খাল পুনর্খননকে জলাশয় পুনরুদ্ধার ও স্থানিক পরিকল্পনার বৃহত্তর কর্মসূচি হিসেবে পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি ও পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, রাজধানী ঢাকায় ৫৬টি খালের অস্তিত্ব ছিল। কিন্তু এখন মাত্র ২৬টি খাল রয়েছে। মূলত ঢাকায় খাল, জলাশয় ও নিম্নভূমি ভরাট বা দখল হওয়ায় প্রাকৃতিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে পানি দ্রুত বের হওয়ার পথ সংকুচিত হওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা ডুবে যায়। এতে যানজট, জনদুর্ভোগ এবং নগরবন্যা বাড়তে থাকে। এই থেকে উত্তরণের দখল হওয়া খাল উদ্ধার হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে আরও উদ্যোগ নিতে হবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক ও পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান বলেন, খাল পুনর্খননকে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। লেক ও জলাভূমি নগরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বৃষ্টির পানি ধরে রাখা এবং নীল-সবুজ অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। অথচ ঢাকায় জলাভূমি হ্রাসের হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। 

আব্দুল্লাহ ইটি এ এল (২০২৪) গবেষণায় উল্লেখ করেছেন, ১৯৯০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ঢাকায় প্রায় ৬৯ শতাংশ জলাভূমি হারিয়ে গেছে। একই সময়ে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৩ দশমিক ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৯ দশমকি ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়েছে। এটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। খাল পুনরুদ্ধার, শুধু পানি নিষ্কাশন প্রকল্প নয়, নগরীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীল গঠনের উদ্যোগ।

নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকার খাল পুনরুদ্ধার শুধু অবকাঠামোগত বা পরিবেশগত প্রকল্প নয়, এটি ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও সুশাসনের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। তাই খাল পুনরুদ্ধারের চলমান উদ্যোগের পাশাপাশি দখলের ইতিহাস ও দখলদারদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিত। সরকার খাল পুনরুদ্ধারে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে। 

কিন্তু এর আগে প্রয়োজন মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজা। এসব খাল কারা দখল করে রেখেছিল? কোনো সরকারই খাল, নদী বা প্রাকৃতিক জলাধার দখলকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি তাদের নিয়ে কোনো শ্বেতপত্রও প্রকাশ করা হয় না। ফলে দখলদাররা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে, বরং অনেক ক্ষেত্রে তারা প্রকাশ্যে প্রভাবশালী অবস্থান বজায় রাখে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, শহরের অধিকাংশ খাল ও পুকুর ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। বর্তমান অবকাঠামোতেও আগের তুলনায় এখন অনেক দ্রুত পানি নেমে যায়। তবে ভরাট হয়ে যাওয়া খাল ও জলাশয় পুনরুদ্ধার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

শহরকে বাসযোগ্য করতে হলে ভরাটকৃত খালগুলো উদ্ধার এবং নদী বাঁচানোর বিকল্প নেই। দখলদারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই খাল পুনরুদ্ধার করা না গেলে চিরচেনা জলাবদ্ধতা সমস্যা থেকে মুক্তি সম্ভব নয়। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সবার সহযোগিতা চাই। তবে এটি কেবল সিটি করপোরেশনের একার কাজ নয়, বরং এর পেছনে জনগণ ও সংস্থা উভয় পক্ষেরই সমান দায়িত্ব রয়েছে।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   বৃষ্টি  সড়ক  পানি  ঢাকা 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: