বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়ী ইউনিয়নের বড় অংকুজান পাড়া ও আশপাশের এলাকায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দূষণের কারণে স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক উঠান বৈঠকে অংশ নেওয়া ২১ জন নারীর মধ্যে ১৭ জন চর্মরোগ ও অ্যালার্জিতে আক্রান্ত বলে জানানো হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে ৫টায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রসংলগ্ন নতুনপাড়া এলাকায় পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), মিশন গ্রিন বাংলাদেশ এবং পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটির উদ্যোগে এ উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বৈঠকে স্থানীয় নারীরা জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর পর থেকে এলাকায় চুলকানি, অ্যালার্জি, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বেড়েছে। অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে থাকায় চিকিৎসা করাতেও হিমশিম খাচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত দূষিত পদার্থ ও গরম পানি পায়রা নদীর জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নদীতে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় জেলে পরিবারগুলো জীবিকা সংকটে পড়েছে। একই সঙ্গে বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও আশপাশের কৃষিজমি ক্ষতির মুখে পড়ছে বলেও দাবি করেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সময় অনেক পরিবার উচ্ছেদের শিকার হলেও এখনো পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন পাননি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পরিবেশ ও জলবায়ু সাংবাদিক এবং মিশন গ্রিন বাংলাদেশের পরিচালক কেফায়েত শাকিল। তিনি বলেন, পরিবেশগত অধিকার ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। পরিবেশ আইন মেনে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বৈঠকে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে কয়লাভিত্তিক প্রকল্প পুনর্বিবেচনা, দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়।
তবে এ বিষয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।