নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে গাইবান্ধা ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে তাঁকে ক্লোজ করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর (টিআই) আলতাব হোসেন। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
স্থানীয় ও ট্রাফিক বিভাগ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ে ফেসবুকে কনটেন্ট তৈরি করতেন সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর। অনলাইন কনটেন্ট তৈরির এই কার্যক্রমের সূত্র ধরেই নিঝুম নামের এক নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত বুধবার (১৭ জুন) রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভার হরিণমারী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ওই নারীসহ সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরকে স্থানীয়রা অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ওই রাতে বাসাটিতে তাঁদের অবস্থানের বিষয়টি জানতে পেরে আশপাশের লোকজন বাসাটি ঘিরে ফেলেন এবং ভেতর থেকে বের হতে বাধা দেন। পরে সেখান থেকে মাদক (ইয়াবা) উদ্ধার হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পরপরই মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন এবং একটি প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে ওই রাতেই অভিযুক্তদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ কারণে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রকাশ্যে আসেনি। তবে শনিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার বিবরণ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে তা দ্রুত ব্যাপক আলোচনায় পরিণত হয়। এরপরই বিষয়টি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট সার্জেন্টকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ প্রশাসন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) আলতাব হোসেন বলেন, পলাশবাড়ীর ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পুলিশ বিভাগ ইতিমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে এবং তদন্ত শেষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই দায়িত্বরত একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠাকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।
বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সময়ের আলো/আতা