রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে একটি ব্রিজের অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। পারাপারের জন্য খেয়ানৌকাই সেখানে একমাত্র ভরসা, যা ঘন কচুরিপানার কারণে মাঝেমধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের হাবিল মন্ডল পাড়া ও দরাপের ডাঙ্গী এলাকায় মরা পদ্মা নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে উজানচর ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, মরা পদ্মা নদীর কারণে উজানচর ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। এখানে একটি ব্রিজ নির্মিত হলে গোয়ালন্দ উপজেলা শহর, জামতলার হাট, মমিনখার হাটসহ ফরিদপুর শহরের সঙ্গে অবহেলিত চরবাসীর সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। ফলে এলাকার কৃষি, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটবে।
উজানচর হাবিল মন্ডল পাড়ার বাসিন্দারা জানান, এই এলাকাটি সম্পূর্ণ কৃষিপ্রধান এবং এখানে প্রচুর ফসল উৎপাদিত হয়। কিন্তু উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার অভাবে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না।
কৃষির পাশাপাশি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। প্রতিদিন শত শত ছাত্র-ছাত্রী খেয়া নৌকায় নদী পার হয়ে স্কুল-মাদ্রাসায় যাতায়াত করে। প্রতিবার পারাপারে তাদের গুণতে হয় ১০ টাকা। সময়মতো নৌকা না পেলে রোদ-বৃষ্টির মধ্যে ঘাটে অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়।
ফরিদপুরে চিকিৎসাধীন অসুস্থ মাকে নিয়ে ঘাটে অপেক্ষারত রমজান শেখ নামের এক যুবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেকক্ষণ ধরে বসে আছি, কিন্তু নৌকার দেখা নেই। এখানে একটা ব্রিজ থাকলে আমার অসুস্থ মাকে নিয়ে এভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।
দীর্ঘদিন ধরে এই ঘাটে নৌকা চালানো মাঝি রহমান শেখ তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, দ্যাশে এ্যাতকাল এ্যাত উন্নতি অইল, কিন্তু আমাগো এহানে একখান ব্রিজ অইলো না। আমি এই এলাকার মানুষগেরে সুখ-দুঃখ খুব কাছ থেইক্যা দেহি। ব্রিজটা অইলে হগ্গলের দুঃখ-কস্ট দূর অইয়া যাইত।
স্থানীয় বাসিন্দা লিয়াকত আলী মন্ডল জানান, এখানে একটি ব্রিজের জন্য তারা বহু বছর ধরে চেষ্টা-তদবির করে আসছেন। বিগত দিনে সাবেক সংসদ সদস্য বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাই এলাকার মানুষ এখন নতুন সরকারের কাছে এখানে দ্রুত একটি ব্রিজ নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছেন।
গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে ২৬০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই প্রস্তাবের কোনো অগ্রগতি বা সাড়া মেলেনি।
এই বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি যে ওখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। এতদিনেও যে সেখানে ব্রিজ হয়নি, তা সত্যিই দুঃখজনক। হাজার হাজার মানুষের জনদুর্ভোগ লাঘবের স্বার্থে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সেখানে দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করব।
সময়ের আলো/জোই