গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র মাওনা চৌরাস্তায় অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন পরিষ্কার না করায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মহাসড়কের দুই পাশের ড্রেন ময়লা-আবর্জনা, পলিথিন, প্লাস্টিক ও পচনশীল বর্জ্যে ভরাট হয়ে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই ড্রেনের দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানি উপচে সড়কে উঠে আসে।
এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এদিকে সম্প্রতি শ্রীপুর পৌর প্রশাসন ড্রেন পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছে। তবে ড্রেন থেকে তোলা ময়লা-আবর্জনা মহাসড়কের পাশেই স্তূপ করে রাখায় নতুন করে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃষ্টির পানিতে এসব বর্জ্য আবার গলে ও ভেসে ড্রেনে ফিরে যাচ্ছে। ফলে ড্রেন পরিষ্কারের সুফল মিলছে না। পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে পচা বর্জ্যরে দুর্গন্ধে পরিবেশও দূষিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. নাহিদ ভূঞা বলেন, মাওনা চৌরাস্তার জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। ড্রেন থেকে তোলা ময়লা-আবর্জনা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান। তবে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির কারণে কিছুটা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. নাহিদ ভূঞা আরও বলেন, ইতিমধ্যে ফ্লাইওভার ও সেতুর নিচে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে, যা চলমান। পাশাপাশি স্থায়ীভাবে সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাওনা চৌরাস্তা ও আশপাশের মার্কেট, দোকানপাট, বাসাবাড়ি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তরল বর্জ্য বছরের পর বছর ধরে এসব ড্রেনে ফেলা হচ্ছে। অনেক বাসাবাড়ির ব্যবহৃত পানির লাইন ও টয়লেটের সংযোগও সরাসরি ড্রেনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় ড্রেনগুলো কার্যত খোলা বর্জ্যাধারে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি টানা বৃষ্টির পর মাওনা চৌরাস্তার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করতে বাধ্য হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সরেজমিন দেখা যায়, ড্রেনের ভেতরে জমে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন, পচনশীল বর্জ্য ও কাদা পানির স্বাভাবিক প্রবাহ প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। কোথাও কোথাও ড্রেনের অস্তিত্বই ময়লার স্তূপের নিচে চাপা পড়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই এসব ড্রেন উপচে নোংরা পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ইকবাল মুন্সি বলেন, ড্রেনে শুধু বৃষ্টির পানি নয়, বিভিন্ন বর্জ্য ও টয়লেটের নোংরা পানিও মিশে থাকে। ফলে সড়কে ছড়িয়ে পড়া পানি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। এতে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাজী রতন মিয়া বলেন, ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হলে এত সমস্যা হতো না। দোকানপাটের ময়লা, বাজারের বর্জ্য ও বাসাবাড়ির নোংরা পানি সবই ড্রেনে ফেলা হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা নোংরা পানিতে তলিয়ে যায়।
সময়ের আলো/জেডি