নড়াইলের কালিয়ায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ছাড় করার বিপরীতে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি এই বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘুষ দাবির এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কালিয়া উপজেলার নড়াগাতি এলাকার বাসিন্দা আ. কাদের সিকদার গত ১৮ জুন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বরাবর এই লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
অভিযোগকারী জানান, স্থানীয় ‘নড়াগাতি মারকায ছওতুল কুরআন’ ও ‘নড়াগাতি মহিলা মাদরাসা’ নামক দুটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হাফেজ রহমাতুল্লাহ। প্রতিষ্ঠান দুটির উন্নয়নের জন্য সরকারিভাবে টিআর প্রকল্প বরাদ্দ আনা হয়। বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে ইতোমধ্যে মাদরাসার নির্মাণ ও মাঠ ভরাটের কাজও শেষ করা হয়েছে। কিন্তু প্রথম কিস্তির পর দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু হলে বাঁধ সাধেন পিআইও মোস্তফা কামাল। তিনি ‘অফিস খরচ’ হিসেবে অতিরিক্ত এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। অগ্রিম এই টাকা পরিশোধ না করলে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা কোনোভাবেই ছাড় করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।
কাদের সিকদার আরও দাবি করেন, পিআইও কর্তৃক ঘুষ দাবির ঘটনার স্পষ্ট ভিডিও প্রমাণ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তিনি ওই ভিডিওসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে তার বিরুদ্ধে আনা ঘুষ দাবির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন কালিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মোস্তফা কামাল। পাল্টা অভিযোগ এনে তিনি বলেন, মাদরাসা দুটির উন্নয়নকল্পে মোট ৬ লাখ টাকার তিনটি প্রকল্প দেওয়া হয়েছিল। প্রথম কিস্তিতে তারা ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করলেও বাস্তবে কোনো কাজই করেননি। পরবর্তীতে কাজ না করেই প্রকল্পের বাকি টাকা ছেড়ে দেওয়ার জন্য আমাকে নানাভাবে চাপ দেওয়া হয়। আমি নিয়ম রক্ষা করে একটি প্রকল্পের টাকা ছেড়ে দিলেও বাকি দুটি প্রকল্পের কাজ এখনো ঝুলে রয়েছে। মূলত তাদের কাজ করার কোনো মানসিকতাই নেই।
তিনি আরও যোগ করেন, আজ ২২ জুন (সোমবার) এই প্রকল্পগুলোর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কাজের প্রতি আমাদের জবাবদিহিতা আছে। আমি শুধু জানতে চেয়েছিলাম প্রথম কিস্তির টাকা নিয়ে কেন কাজ করা হয়নি? এখন নিজের গাফিলতি ঢাকতে এবং বকেয়া টাকা ফেরত না দেওয়ার উদ্দেশ্যে আমার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির কাল্পনিক অভিযোগ তোলা হচ্ছে। আমি কোনো ঘুষ দাবি করিনি।
এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ বি এম মনোয়ারুল আলম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কালিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ আমরা হাতে পেয়েছি। ঘুষ লেনদেন বা দাবির কোনো ভিডিওর কথা বলা হলেও সেটি এখনো আমার দেখার সুযোগ হয়নি। তবে সরকারি প্রকল্পের অর্থ নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। অভিযোগের বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সময়ের আলো/জোই