কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের সিন্ডিকেটের কারণে বাইপাসের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার শংকা উলিপুরবাসীর। জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ হাতিয়ে নিতে সিন্ডিকেট সদস্যরা তড়িঘড়ি করে নামমাত্র একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ বহুতল ভবন নির্মাণ করেছে। এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ হওয়ায় বাইপাসের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উলিপুর উপজেলার পৌরসভার অভ্যন্তরে কৃষি জমির মাঝে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে একাধিক বহুতল ভবন। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই স্বল্প সময়ের মধ্যে এসব ভবন নির্মাণ করেছে কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক, দেলোয়ার হোসেন, সার্ভেয়ার রনি, আসাদুল্লাহ আল গালিব ও তার স্ত্রী সোনিয়ার। রাস্তা বিহীন এসব ভবন নির্মাণ করা হয়েছে জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে।
উপজেলা শহরের যানজট আর নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে উলিপুর হেলিপ্যাড মোড় হতে গুনাইগাছ মোড় পর্যন্ত একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এছাড়াও নকশা অনুযায়ী শহরের প্রাণ কেন্দ্র জনবহুল আমিন মোড়ে সংযোগ সড়কের অবয়বের একটি গোল চত্বর ধরা হয়েছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে আগে ভাগেই সড়ক বিভাগের সিন্ডিকেট সদস্যরা জমি ক্রয় করে সেখানে রাতারাতি ভবন নির্মাণ করে ফেলে। এরপর সংযোগ সড়কের নকশায় কৌশলে তাদের ভবন-জমি অন্তর্ভুক্ত করে।
এতে করে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এর উদ্দেশ্যে কয়েকশত পরিবারকে গৃহহীন, কর্মহীন করতে গোপনে সংযোগ সড়কের নকশা তৈরি করা হয়। প্রস্তাবিত সংযোগ সড়কের নকশা অনুযায়ী উপজেলা মূল শহর থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার পাশে জনবহুল এলাকায় ভেদ করে সংযোগ সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই নকশা অনুযায়ী সংযোগ সড়ক নির্মিত হলে দুর্ভোগ কমানোর চেয়ে আরও বাড়ার শংকা স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল হক বলেন, যেভাবে সংযোগ সড়কের নকশা করা হয়েছে তাতে করে জনবহুল এলাকার কয়েকশত পরিবার তাদের মাথা গোঁজারঠাই হারাবে। বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হারিয়ে নিঃস্ব হবার পাশাপাশি বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বে।
শামসুল হক বলেন, প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত আমিন মোড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,সরকারী-বেসরকারি অফিস,সংস্থার সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠী নিয়মিত যাতায়াতের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ার শংকা রয়েছে। নকশা পরিবর্তন করে সংযোগ সড়কটি উপজেলার পাশে রেলে অতিরিক্ত জমিতে নির্মাণ করার দাবী জানান। এতে করে মানুষের ক্ষতি কমবে এবং সরকারের কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
সাহেরা বেগম বলেন, সড়ক বিভাগের লোকজন দুই/তিন নাম্বার ইট দিয়ে এই বিল্ডিং গুলো করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় এসব বিল্ডিং।ওদের কেউ এখানে বসবাস করে না। পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। বিল্ডিং যাওয়ার রাস্তা নেই জমির আইল দিয়ে যেতে হয়। টাকার লোভে আর গরিব মানুষকে মারার জন্যে এসব বিল্ডিং করছে সড়ক বিভাগের লোকজন।
সড়ক বিভাগের হিসাব রক্ষক আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন স্টাফ মিলে জমি ক্রয় ও ভবন নির্মাণ করার কথা স্বীকার করে বলেন,বসবাস করার জন্য এই ভবন করা হয়েছে। আর কাকতালীয় ভাবে সংযোগ সড়কের নকশায় তাদের জমি ও ভবন পড়েছে।
কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন,উলিপুর সংযোগ সড়কটি ২০২৩ সালে ৬৮ কোটি ২৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকা ব্যয়ে দেড় বছর মেয়াদী চিলমারী সংযোগ সড়ক শীর্ষক প্রকল্পের। কিন্তু স্থানীয়দের আপত্তির কারণে জমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ১০ কোটি ফেরত গেছে। প্রায় ৩ দশমিক ২০ কিলোমিটার সংযোগ সড়কটি গত বছর ডিসেম্বর শেষ হবার কথা থাকলেও মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ করার কথা। এখন পর্যন্ত কাজের কোন অগ্রগতি নেই।
তিনি আরও বলেন, সড়ক বিভাগের স্টাফদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটি বাস্তবায়ন হবে।
সময়ের আলো/আতা