ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোনের আইএমইআই পরিবর্তন করে বিক্রয় কাজে সংশ্লিষ্ট এক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল মোবাইল ফোন, সরঞ্জাম ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের মিডিয়া সেন্টারের এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, জাহাঙ্গীর হোসেন প্রকাশ জাহাঙ্গীর মনি (৫২), চক্রের মূলহোতা মুহাম্মদ সোহেল উদ্দিন প্রকাশ পার্টি সোহেল (৩৫) এবং তার সহযোগী আবু সাঈদ (৩৪), মো. শামীম (২৪) ও সাইফুল ইসলাম (১৯)।
সিএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মো.হাবিবুর রহমান বলেন, পুলিশ দীর্ঘদিন চক্রের সদস্যদের বিষয় নজরে রাখছিল। বুধবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে জাহাঙ্গীর হোসেন প্রকাশ জাহাঙ্গীর মনিকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর নন্দনকানন আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতা মুহাম্মদ সোহেল উদ্দিন প্রকাশ পার্টি সোহেল এবং তার সহযোগী আবু সাঈদ, মো.শামীম ও সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে।
উপ-কমিশনার হাবিবুর রহমান আরও জানান, বিভিন্ন চোর ও ছিনতাইকারী চক্রের কাছ থেকে কম দামে চুরি ও ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন সংগ্রহ করতো। পরে বিশেষ সফটওয়্যার ও ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে ফোনগুলোর আইএমইআই নম্বর ও কেসিং পরিবর্তন করে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতো।
তাদের কাছ থেকে ২৪টি আইফোনসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ১৫৭টি মোবাইল ফোন, পাঁচটি ল্যাপটপ, ২০১টি সিমকার্ড, মোবাইল ফোনের ৪৪৫টি কেসিং, মাইক্রোস্কোপ, চার্জার, মাল্টিপ্লাগ, নগদ এক লাখ এক হাজার ৫০০ টাকা এবং মোবাইল ফোনের আইএমইআই পরিবর্তনের মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয় বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, আটকের পর কোতোয়ালী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতার সোহেল উদ্দিনের বিরুদ্ধে চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন থানায় আটটি মামলা আছে। জাহাঙ্গীর মনির বিরুদ্ধে রয়েছে চারটি মামলা। আবু সাঈদের বিরুদ্ধে গাজীপুরের বাসন থানায় আছে একটি হত্যা মামলা। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত আছে।
সময়ের আলো/আতা