টুরিস্ট ভিসা চালুর খবরে মুখে হাসি কলকাতার ব্যবসায়ীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক

প্রথমে ভিসা বন্ধ, এরপর মেডিকেল, স্টুডেন্ট, বিজনেস, এন্ট্রি ভিসা চালু হলেও দীর্ঘ ২২ মাস বন্ধ থাকে টুরিস্ট ভিসা। আর দীর্ঘ

2026-06-26T15:32:11+00:00
2026-06-26T15:32:11+00:00
 
  শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬,
১২ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
টুরিস্ট ভিসা চালুর খবরে মুখে হাসি কলকাতার ব্যবসায়ীদের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৩:৩২ পিএম 
টুরিস্ট ভিসা। সংগৃহীত ছবি
প্রথমে ভিসা বন্ধ, এরপর মেডিকেল, স্টুডেন্ট, বিজনেস, এন্ট্রি ভিসা চালু হলেও দীর্ঘ ২২ মাস বন্ধ থাকে টুরিস্ট ভিসা। আর দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশি পর্যটকের অভাবে অর্থনৈতিকভাবে ধুঁকতে থাকা কলকাতার নিউমার্কেটে বন্ধ হয়েছে একের পর এক মানি এক্সচেঞ্জ কাউন্টার, হোটেল, রেস্তোরাঁ থেকে যাত্রীবাহী বাস পরিষেবা।  

দীর্ঘ ২ বছর করোনাভাইরাসের দাপট। এরপর ২৪-এর ছাত্র আন্দোলন এবং এরপর ৫ আগস্ট বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে কলকাতার নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ভারত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকলে নিউমার্কেটের অর্থনৈতিক ক্ষত আরও গভীর হয়।

এক পর্যায়ে নিউমার্কেট এলাকার সেন্টমার্টিন পরিবহনের কাউন্টার বন্ধ হয়ে এই কাউন্টারে শুরু হয়েছিল জামাকাপড়ের ব্যবসা। নিউমার্কেটের ২০০টি আবাসিক হোটেলের মধ্যে ঝাঁপ পড়ে গিয়েছিল প্রায় ৩৯টিতে। রীতিমতো অর্থনৈতিক সংকটে ধুঁকছিল বাকি সবকটি হোটেল। বন্ধ হয়ে পড়েছিল অন্তত ১০টি মানি এক্সচেঞ্জ কাউন্টার। 

মেডিকেল ভিসা পুরোদমে চালু হওয়ার পর পরিস্থিতি বিগত কয়েক মাসে কিছুটা বদলেছে। তবে টুরিস্ট ভিসা বন্ধ থাকায় পুরোনো জৌলুশ ফেরেনি নিউমার্কেটের।

এমন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশিদের জন্য টুরিস্ট ভিসা চালু করার কথা ঘোষণা দিয়েছে ভারতীয় হাইকমিশন। আর এমন ঘোষণা আসার পরই মিনি বাংলাদেশখ্যাত কলকাতার নিউমার্কেটে আবারও খুশির হাওয়া। 

কলকাতার নিউমার্কেট থেকে ভারতের পেট্রাপোল সীমান্ত পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাস পরিষেবা দেয় ৮টি পরিবহন সংস্থা। যাত্রীর অভাবে একসময় প্রতি আট দিনে একবার করে রোটেশনে আটটি সংস্থার বাস চলত। পরিবহন সংস্থাগুলো আশাবাদী, টুরিস্ট ভিসা চালু হলে পরিস্থিতি আগের মতো হতে পারে। 

গ্রীন লাইন পরিবহনের ম্যানেজার শ্যামল ঘোষ বলেন, আমরা আগে এই অফিসে ৮ থেকে ৯ জন কাজ করতাম। এখন ৪ জন আছি। টুরিস্ট ভিসা চালু হলে ব্যবসা বাড়বে। আমরা খুবই খুশি। হয়তো বাকিদের আবার দরকার পড়বে। 

কলকাতার নিউমার্কেটের কাছেই হগ মার্কেট। এই মার্কেটেই বহুজাতিক সংস্থার খুচরা ও হোলসেল কসমেটিকস বিক্রি করেন মনিকা পাল। টুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ার খবরে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত এই নারী বিক্রেতা বলেন, আমাদের এই নিউমার্কেট চত্বরের ব্যবসা গোটাটাই বাংলাদেশি পর্যটকনির্ভর। বাংলাদেশি ক্রেতা আমাদের কাছে এলে আমাদের একসঙ্গে অনেক টাকা লেনদেন হয়। এতদিন ভিসা বন্ধ ছিল, আমাদের ব্যবসা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টুরিস্ট ভিসা চালু হলে আমাদের ব্যবসা বাড়বে, সেল বাড়বে, আমাদের ক্ষতি কমবে, সবকিছু আগের মতো চলবে। আমাদের এই নিউমার্কেট এলাকায় শুধু আমার ব্যবসা নয়, হোটেল ব্যবসা থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ বা যেকোনো ব্যবসাই এতদিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশীরা খুব ছোটখাটো লেনদেন করেন না। আমরা আশাবাদী, আমাদের রিটেল এবং হোলসেল— দুটো ব্যবসাই আগের মতো চলবে। 


নিউমার্কেট এলাকার পাইকারি মসলার বিক্রেতা মাকসুদ আহমেদ বলেন, নিউমার্কেট একটি ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট। সারা পৃথিবী থেকে টুরিস্টরা এলে তারা এটি চেনে। নিউমার্কেটের লোকেশন এবং এখানে সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। মশলা, কাপড়, ওষুধ—সব পাওয়া যায়। টুরিস্টরা এলে আমাদের অনেক উপকার হবে। দিনশেষে তারা যে টাকা এখানে খরচ করবে, সেটা ভারতীয় অর্থনীতিতেই কাজে লাগবে। শেষ দুই বছরে কলকাতার অর্থনীতি সব ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী হয়েছে। মেডিকেল, ফুটওয়্যার, জামাকাপড়, মশলাপাতি— সব ক্ষেত্রে। 

তিনি আবারও বলেন, ভারত সরকার কয়েক বিলিয়ন ডলার হাতছাড়া করেছে। দুই বছর বন্ধ রেখে কী লাভ হয়েছে, সেটা একমাত্র হাই-লেভেল অথরিটিরাই বলতে পারবে। ব্যবসায়ীরা অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার অন্তত ভিসা চালু হলে কিছুটা সুবিধা হবে। কার বুদ্ধিতে ভিসা বন্ধ হয়েছিল জানি না, তবে অর্থনীতিতে অনেক বড় ক্ষতি করে গেছে। 

নিউমার্কেট এলাকার গার্মেন্টস বিক্রেতা রামবাবু বলেন, বাংলাদেশীরা না আসায় অনেক অসুবিধা হয়েছে। এবার যাতায়াত শুরু হলে খুবই ভালো হয়। দুই বছরে অনেক ক্ষতি হয়েছে। 

আরেক ব্যবসায়ী অহসিন আহমেদ বলেন, আমাদের টুরিস্ট এলাকার মধ্যে মার্কেট। এখানে এত প্রভাব পড়েছে, আপনারা চিন্তা করতে পারবেন না। অনেক দোকান বন্ধ হয়ে গেছে, অনেক দোকান চালাতে পারছেন না, স্টাফরা বসে আছে। আমাদের সরকার এখন যদি কোনো ভালো সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আমরা খুশি। ব্যবসা হলেই তো আমাদের সবকিছু চলবে, না হলে আমাদের চলবে কীভাবে? এখন যদি টুরিস্ট ভিসা চালু হয়, তাহলে তো খুবই ভালো। দুই বছর ব্যবসা এত খারাপ ছিল, আপনি বিশ্বাস করবেন না। স্টাফদের খরচ তোলা কঠিন হয়ে গিয়েছিল। কত হোটেল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। 

হোটেল ব্যবসায়ী ইকবাল আহমেদ বলেন, গত দুই বছর ধরে ব্যবসা একেবারেই নেই। গেস্টহাউস খালি যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে ১,০০০ রুপির রুম আমরা ৩০০/৪০০ রুপিতেও ভাড়া দিয়েছি। এখন যদি পরিস্থিতি ভালো হয়, তাহলে দুই দেশের জন্যই ভালো।  



সময়ের আলো/ইউএমএইচ




  বিষয়:   টুরিস্ট ভিসা  বাংলাদেশি পর্যটক  ভারত 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: