পুরান ঢাকার বাংলাবাজারে আশুরার তাজিয়া মিছিলের ডুলির (একটি প্রতীকী কাঠামো) রশি ধরা নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির জেরে মো. জাকির হোসেনকে (৩১) হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ছিলেন।
শনিবার (২৭) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ভুক্তভোগী ও হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় জাকির হোসেনের বড় ভাই অজ্ঞাতনামা ১৪-১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার প্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতেই হত্যায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. রাশেদ (২০) আর বাকি তিনজন শিশু। তারা সবাই রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকার বাসিন্দা। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি সুইচ গিয়ার চাকু ও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে তালেবুর রহমান বলেন, তাজিয়া মিছিলে থাকা ডুলির রশি ধরাকে কেন্দ্র করে জাকির ও হামলাকারীদের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা এবং পরে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা জাকিরকে ধাওয়া করলে আত্মরক্ষার্থে তিনি পি কে রায় রোডের ইস্পাহানি ভবনের নিচে আশ্রয় নেন। সেখানে তাকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদেরও ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (২৬) বিকেলে পুরান ঢাকার পি কে রায় রোডের ইস্পাহানি ভবনের নিচতলায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল যুবক জাকিরকে এলোপাতাড়ি মারধর ও ছুরিকাঘাত করে। খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক জাকিরকে মৃত ঘোষণা করেন।
সময়ের আলো/আআ