ময়মনসিংহে তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরীসহ আশপাশের এলাকার মানুষ। বিশেষ করে সামনে এসএসসি পরীক্ষা থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে নগরীর চড়পাড়া, গাঙ্গিনার পাড়, ভাটিকাশর, আকুয়াসহ প্রায় প্রতিটি এলাকায় ১ থেকে দেড় ঘণ্টা পর পর বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে। দিনের বেলায় ৪-৫ বার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। আর গ্রামীণ বা শহরতলির এলাকাগুলোতে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আর্থিক ক্ষতি দেখা দিয়েছে।
ভোগান্তির বিষয়ে কলেজ রোড এলাকার গৃহিণী শামছুন নাহার বলেন, দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পাম্প দিয়ে পানি ওঠানো যাচ্ছে না। এদিকে ভাটিকাশর এলাকার আব্দুল কাদের জানান, তীব্র গরমে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের ময়মনসিংহ জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা মাসুম বলেন, চরপাড়া এলাকার তিন শতাধিক ক্লিনিক ও হাসপাতালে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মুমূর্ষু রোগীদের অপারেশনের সময় জেনারেটর চালাতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে, যা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।
ময়মনসিংহ পাওয়ার গ্রিডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল হক বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নেই, মূলত উৎপাদন কম থাকায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ মিলছে না।
তিনি বিদ্যুৎ উৎপাদনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ময়মনসিংহ শম্ভুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনে ২১০ মেগাওয়াটের বিপরীতে উৎপাদন শূন্য মেগাওয়াট। জামালপুর ইউনাইটেড পাওয়ার প্ল্যান্টে ৩১৫ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ করছে মাত্র ১০০ মেগাওয়াট। শ্রীপুর বর্মি পাওয়ার প্ল্যান্টে ১৬০ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ করছে মাত্র ৬০ মেগাওয়াট।
দ্রুত এই সংকটের সমাধান না হলে জনভোগান্তি আরও অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী নগরবাসী। তারা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সময়ের আলো/জোই