প্রকাশ পেয়েছে দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান অভিনীত ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমার ট্রেলার। এতে পরতে পরতে সম্পর্ক, একে অপরকে জড়িয়ে থাকা, ভালোবাসার অনুরণন দেখিয়েছেন সিনেমার পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, যা প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। ‘মেঘনা’ চরিত্রে জয়া আহসানের প্রত্যাবর্তন মন জয় করেছে দর্শকদের।
২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমার সিক্যুয়াল ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। সিনেমাটির প্রকাশিত ট্রেলারে দেখা যায়, আগের সিনেমার রেশ ধরে জয়া আহসান (মেঘনা) এবং কৌশিক সেনের (সুমন) দাম্পত্যে এসেছে এক বড়সড়ো ফাটল। বিয়ের পরেও মেঘনার সংসারে সুখ নেই; বরং অতীত, অবিশ্বাস আর মানসিক নির্যাতন গ্রাস করেছে তাদের জীবনকে। ভিডিওটিতে জয়ার কিছু দৃশ্য দর্শকদের গায়ে কাঁটা দেবে।
বিশেষ করে যখন তিনি অসহায় কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে সুমনের প্রাক্তন স্ত্রী শুভ্রার (চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়) কাছে গিয়ে দাঁড়ান এবং নিজের ভাঙতে বসা সংসার বাঁচাতে এক অদ্ভুত আর্জি জানান।
জয়া আহসানের চোখের জল, গলার অপরাধবোধ এবং একই সঙ্গে নিজের আত্মসম্মান বাঁচানোর যে আকুতি তা ট্রেলারটিকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। কলকাতার এক বনেদি পরিবারের প্রাক্তন-বর্তমানের জটিল সমীকরণে নিজেকে টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে জয়া তার অভিনয়ে এক অসাধারণ পরিপক্বতা ফুটিয়ে তুলেছেন।
‘অর্ধাঙ্গিনী’র প্রথম পর্বের মতোই এবারও মূল আকর্ষণ জয়া আহসান ও চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের মুখোমুখি সংঘাত। তবে এবার সমীকরণ কিছুটা উল্টো। এবার জয়ার চরিত্র ‘মেঘনা’ নিজেই এসেছে শুভ্রার সাহায্য চাইতে। ট্রেলারে জয়ার সংবেদনশীল অভিনয় এবং চূর্ণীর ধারালো ব্যক্তিত্বের যে যুগলবন্দি দেখা গেছে, তা এক মুহূর্তের জন্যও চোখ ফেরাতে দেয় না।
ট্রেলার লঞ্চের পর জয়া আহসান অকপটে স্বীকার করেছেন তার এই চরিত্রটি হয়ে উঠার পেছনের মানুষদের কথা। তিনি বলেন, ‘কৌশিকদা এবং চূর্ণীদি না থাকলে পর্দায় মেঘনা হয়ে উঠতে হয়তো পারতাম না।’ অন্যদিকে ট্রেলারে জয়ার চরিত্রের সমান্তরালে দেখা গেছে নতুন সংযোজন ইন্দ্রাশীষ রায়কেও।
তিনি কি মেঘনার এই চরম মানসিক অশান্তির দিনে শুধুই এক বন্ধু, নাকি তার জীবনে নতুন কোনো মোড় নিয়ে আসবেন? জয়া-ইন্দ্রাশীষের এই রসায়নও গল্পে নতুন এক রহস্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ট্রেলারটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শেয়ার করেছেন জয়া আহসান। সেই সঙ্গে জীবন ও সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে দিয়েছেন একটি আবেগঘন বার্তা। পোস্টে জয়া লিখেছেন, জীবন কোনো দিনই সরল ছিল না, হবেও না। তবু সমীকরণ বদলে বদলে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে চায় মানুষ। এই অনন্ত খোঁজের খেলায় কোনো প্রাক্তন বা বর্তমানের ভেদাভেদ থাকে না। সব গণ্ডি মুছে যায়।
এ রকমই সামনে চলার কঠিন একটা দলিল ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। উল্লেখ্য, ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ কলকাতার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে আগামী ১০ জুলাই।
সময়ের আলো/জেডি