মাদারীপুরের শিবচরে তীব্র লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ বেড়েছে সাধারণ মানুষের। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে কখনো এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও পরপর দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, শ্রমজীবী মানুষের আয়-রোজগার এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা।
শিবচরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই ঘর থেকে বের হয়ে দোকান, রাস্তার পাশে কিংবা খোলা জায়গায় সময় কাটাচ্ছেন। রাতে লোডশেডিং বাড়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।
স্থানীয় ভ্যানচালক রফিক বলেন, রাতে ভ্যানের ব্যাটারি ঠিকমতো চার্জ দিতে পারি না। তাই দিনে অর্ধেক বেলাও ভ্যান চালাইতে পারি না। আগে যেখানে ৫০০–৬০০ টাকা আয় হইত, এখন ৩০০ টাকাও হয় না। পোলাপান নিয়ে কেমনে চলমু?
সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী কায়নাত জানায়, ১ তারিখ থেকে আমাদের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। কিন্তু সন্ধ্যার পর লোডশেডিং আর গরমে পড়তে বসতেই পারি না।
৭০ বছর বয়সী শরিফ মোল্লা বলেন, এই গরমে লোডশেডিং হলে জান যায় আর আসে। তার ওপর আমি প্রেশারের রোগী। খুব কষ্ট হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল চার্জ, পানির মোটর চালানোসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে শিবচর পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার অভিলাষ চন্দ্র পাল বলেন, জনগণ আমাদের ওপর বিরক্ত হলেও আমাদের কিছু করার নেই। আমরা চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর লোডশেডিং দিয়ে সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করছি।
তিনি জানান, শিবচরে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩৫ মেগাওয়াট, অথচ বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৬ থেকে ১৭ মেগাওয়াট। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়িয়ে শিবচরবাসীকে এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।
সময়ের আলো/জোই