বয়স বাড়ে মান বাড়ে না

ফাইয়াজ উদ্দিন স্মরণ

জাতীয়

আজ গৌরবোজ্জ্বল ১ জুলাই, ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ১০৬ বছরে পদার্পণের দিন। এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার

2026-07-01T01:24:13+00:00
2026-07-01T01:24:13+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
গৌরবের ১০৬ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
বয়স বাড়ে মান বাড়ে না
ফাইয়াজ উদ্দিন স্মরণ
প্রকাশ: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১:২৪ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
আজ গৌরবোজ্জ্বল ১ জুলাই, ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ১০৬ বছরে পদার্পণের দিন। এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চ শিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’। 

১৯২১ সালের এই দিনে মাত্র ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী, ৬০ জন শিক্ষক, ৩টি অনুষদ ও ১২টি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়টি আজ ৪২ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী, প্রায় ২ হাজার শিক্ষক, ১৩টি অনুষদ ও ৮৩টি বিভাগ নিয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান- দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের প্রয়োজনে বারবার সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার এই ঐতিহ্যই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে মানুষের প্রত্যাশার প্রতীক করে তুলেছে। 

তবে শতবর্ষ পেরিয়ে ১০৬ বছরে পদার্পণ করলেও এখন পর্যন্ত শতভাগ আবাসন নিশ্চিত হয়নি, গড়ে ওঠেনি পুরোপুরি নিরাপদ ক্যাম্পাস। শিক্ষার মান, গবেষণার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলো নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন ও প্রত্যাশা।

শতবর্ষ পেরুলেও কাটেনি আবাসন সংকট : দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বর্তমানে ৪২ হাজার ৮৮১ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলেও আবাসন সংকট এখনও তীব্র। বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯টি আবাসিক হল ও ৪টি হোস্টেল থাকলেও মোট শিক্ষার্থীর ৫৩ শতাংশেরও বেশি হলের সিট থেকে বঞ্চিত। এর মধ্যে ২০ হাজার ৭২৯ জন ছাত্রীর মাত্র ৭ হাজার ২১০ জন (৩৪.৭৮ শতাংশ) হলে থাকার সুযোগ পান, আর ৬৫.২২ শতাংশ হলের বাইরে থাকতে বাধ্য হন। 

অন্যদিকে ২২ হাজার ১৫২ জন ছাত্রের মধ্যে ১২ হাজার ৭৬৯ জন (৫৭.৬৪ শতাংশ) হলে থাকতে পারেন।
হলের সিট না পেয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী রাজধানীর বিভিন্ন মেস ও সাবলেটে থাকছেন। উচ্চ ভাড়া, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, নিম্নমানের খাবার ও দীর্ঘ যানজট তাদের নিত্যসঙ্গী। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে বেশি ভোগান্তির শিকার হন, যা তাদের পড়াশোনা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহশিক্ষা কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, আবাসন সংকট লাঘবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে।

অনিরাপদ ক্যাম্পাস : ঢাবি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি নিরাপদ ক্যাম্পাসের। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নানা উদ্যোগের কথা বললেও বাস্তবে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। বরং একের পর এক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার কারণে শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের চারপাশে নির্দিষ্ট সীমানাপ্রাচীর না থাকায় ভবঘুরে, মাদকসেবী ও টোকাইদের অবাধ বিচরণও নিরাপত্তা সংকটকে আরও তীব্র করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘সন্ধ্যার পর টিউশন শেষে হলে ফিরতে গেলেই এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করে। কখন কী ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, সেই শঙ্কা সবসময় থাকে। রাস্তা পারাপার থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় বহিরাগতদের কারণে প্রায়ই অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। নিজের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থেকেও যদি বহিরাগতদের হয়রানির শিকার হতে হয়, তা হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কোথায়?’

মানহীন হলের খাবার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর ক্যান্টিনে নিম্নমানের খাবার নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ দীর্ঘদিনের। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক ক্যান্টিনে এখনও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার প্রস্তুত করা হয়। পরিবেশিত খাবারের পুষ্টিগুণও সন্তোষজনক নয়। এ ছাড়া খাবারের পরিমাণের তুলনায় অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

মাস্টার দা সূর্য সেন হলের শিক্ষার্থী তানভীর হাসান বলেন, ‘হলের ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে আমরা বছরের পর বছর অভিযোগ জানিয়ে আসছি। কিন্তু সমস্যার খুব একটা সমাধান হয়নি। অনেক সময় খাবার বাসি মনে হয়, আবার পরিবেশও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। সবচেয়ে হতাশার বিষয় হলো, নিম্নমানের খাবারের জন্যও তুলনামূলক বেশি দাম দিতে হয়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত মনিটরিং করা জরুরি।’

এ বিষয়ে ডাকসুর সদস্য ও সিনেট সদস্য সাবিকুননাহার তামান্না বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত ও পর্যাপ্ত খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাজেটে কোনো কার্যকর বরাদ্দ দেখতে পাইনি। বিশেষ করে হলকেন্দ্রিক বাজেটে ক্যান্টিনের মানোন্নয়ন, খাদ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করার জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। ডাকসু এবং নারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে আমি হলের ক্যান্টিনগুলোর উন্নয়ন এবং খাদ্যের মান ও পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে বাজেট অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছি। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের যেসব এলাকায় খাদ্যসেবার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, বিশেষ করে কার্জন হল এলাকায়, সেখানে নতুন ক্যান্টিন নির্মাণ এবং চলমান ক্যান্টিন-সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোর জন্য দ্রুত বাজেট অনুমোদনের দাবি জানিয়েছি।’

১০৩৩ কোটির বাজেটে গবেষণায় ইউজিসির বরাদ্দ শূন্য : ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জন্য ১ হাজার ৩৩ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে বাজেটে গবেষণা খাতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) পক্ষ থেকে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

গত ২৯ জুন ২০২৬ সিনেটের বার্ষিক অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, ‘পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে গবেষণা খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে গবেষণা খাতে ইউজিসি থেকে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দুঃখজনক।’

অন্যদিকে সিনেট অধিবেশনে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘সারা দুনিয়াব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল কাজ হচ্ছে গবেষণা, জ্ঞান অর্জন এবং জ্ঞান উৎপাদন করা। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় মূল বাজেটের মাত্র ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আবার ইউজিসি ও সরকার থেকে গবেষণায় যে বরাদ্দ হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার পরিপূর্ণ ব্যয়ও করা হয় না। এর জন্য যারা দায়ী তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’

বিশ্বের সেরা ২০০ বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার প্রত্যয় : বিশ্বের শীর্ষ ২০০ একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের কাতারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় প্রকাশ করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ২০২৬ থেকে ২০৪৬ সাল পর্যন্ত ২০ বছর মেয়াদি ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি একাডেমিক প্ল্যান’ (ডিইউএপি) প্রণয়ন করা হচ্ছে।

ঢাবি উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে গবেষণা হবে কেন্দ্রীয় শক্তি, শিক্ষা হবে ভবিষ্যৎমুখী, প্রশাসন হবে দক্ষ এবং উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন হবে বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

শতবর্ষের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে স্মরণ করে উপাচার্য বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা, রাষ্ট্রচিন্তা, শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান জাতীয় পরিচয়ের অংশ। অতীতের সেই গৌরব ও নেতৃত্বের উত্তরাধিকার ধারণ করে ভবিষ্যতের জন্য নতুন পথরেখা নির্মাণ করতে চায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’

যা বলছে প্রশাসন : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী সময়ের আলোকে বলেন, ‘সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিতের লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে প্রশাসন। এগুলোর কাজ আগাচ্ছে। আমরা শিগগিরই নতুন হল নির্মাণের মাধ্যমে এই সিট সমস্যা সমাধান করব। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। তা ছাড়া পূর্বাচলে আমার দ্বিতীয় ক্যাম্পাস করার চিন্তাভাবনা করছি সেখানে আধুনিক হাসপাতালসহ সব ঝরে সুবিধা থাকবে।’


নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতের বিষয়ে আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী আরও বলেন, ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা এটি একটি সামাজিক প্রচেষ্টা। সমাজের সবাই যদি সচেতন থাকে তবেই ক্যাম্পাসে অনাকাক্সিক্ষত কিছু ঘটবে না। নিরাপদ ক্যাম্পাস নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু আমাদের আর্থিক অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি নিয়মিত তাদের কাজ করে যাচ্ছেন‌। আশা করি সবাই যদি সচেতন থাকে তা হলে ক্যাম্পাসে কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পরিমাণ কমে যাবে।’

খাদ্যের মান নিয়ে তিনি বলেন, ‘খাদ্য মানুষের মৌলিক চাহিদা। অবশ্যই খাদ্যের মান উন্নত করা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রভোস্টরা হাউস টিউটরদের মাধ্যমে নিয়মিত হল ক্যান্টিনের খোঁজখবর রাখছেন। তা ছাড়া হল সংসদ রয়েছে তারাও এ ব্যাপারে যথেষ্ট দায়িত্ব পালন করছেন। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড অনেক দুর্বল তাই খাবারে ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু আমাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে যে বিভিন্ন জায়গা থেকে ফান্ড কালেকশনের মাধ্যমে আমার খাদ্যে ভর্তুকি দিয়ে খাবারের মান বাড়াতে পারি।’

ঢাবির কর্মসূচি : দিনব্যাপী নানা বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ ১ জুলাই ১০৬তম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করা হবে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চ শিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’। উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়েছে।

দিবসটি উদযাপনে আজ সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল ও হোস্টেল থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ শোভাযাত্রা সহকারে স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে সমবেত হবেন। সেখান থেকে সকাল পৌনে ১০টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে। 

শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অংশ নেবেন। সকাল ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সম্মুখস্থ চত্বরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলোর পতাকা উত্তোলন এবং কেক কাটা হবে। এ সময় সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাতীয় সংগীত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের থিম সং এবং রবীন্দ্র সংগীত ও নজরুল সংগীত পরিবেশিত হবে। এ ছাড়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অন্য একটি সংগীত পরিবেশিত হবে।

সকাল সাড়ে ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চ শিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ এফ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে ১ জুলাই সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ক্লাসগুলো বন্ধ থাকবে, তবে পরীক্ষাগুলো যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে আজ বেলা ৩টায় অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে এক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে আজ দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যানবাহন প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত থাকবে। উল্লেখিত সময়ে শাহবাগ, দোয়েল চত্বর, শিববাড়ি ক্রসিং, ফুলার রোড ও নীলক্ষেত প্রবেশপথে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি এবং জরুরি সেবা (অ্যাম্বুলেন্স, ডাক্তার, রোগী, সাংবাদিক, রাইড শেয়ার, খাবার গাড়ি, অনলাইন শপিং বাহনসহ অন্যান্য সরকারি গাড়ি) ব্যতীত অন্য যানবাহন ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত থাকবে। পলাশী থেকে দোয়েল চত্বর হয়ে হাইকোর্ট মোড়ের রাস্তা উন্মুক্ত থাকবে। তবে গণপরিবহন এবং ভারী যানবাহন প্রবেশ সবসময়ই নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   গৌরব  ঢাকা  বিশ্ববিদ্যালয়  বয়স 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: