চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাহেবনগর এলাকায় পাহাড়ি ঢলের তোড়ে প্রধান সড়কের একটি কালভার্ট দুই পাশের সংযোগ সড়ক থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সাহেবনগর সড়কের ‘বেল্লাতল’ খালের ওপর অবস্থিত এই জরাজীর্ণ কালভার্টটি বর্তমানে চলাচলের জন্য একেবারেই অনুপযোগী ও বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা কালভার্টটির দুই পাশে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে পারাপার হচ্ছেন।
স্থানীয় মো. ইকবাল হোসেন জানান, এই সড়কটি অত্র অঞ্চলের যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এই পথে প্রায় ৫ থেকে ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। সড়কটি একদিকে সাদেক শাহ্ মাজার হয়ে রাঙামাটি প্রধান সড়কের সাথে এবং অন্যদিকে খতিবনগর ও রুইস্যাবিলি হয়ে পার্বত্য অঞ্চল ঘাগড়া সংযোগ সড়কের সাথে সরাসরি যুক্ত। কালভার্টটির ঢালাই খসে আগেই রড বেরিয়ে গিয়েছিল এবং মূল কাঠামোতে বড় ফাটল দেখা দিয়েছিল। এবারের পাহাড়ি ঢলে দুই পাশের মাটি সরে যাওয়ায় এটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে কালভার্টটি ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানি বা দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়লে এই অঞ্চলের হাজার হাজার বাসিন্দাদের রাঙামাটি যাওয়ার একমাত্র বিকল্প সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। অবিলম্বে এটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।
এদিকে পাহাড়ি ঢলের এই আকস্মিক তাণ্ডবে সাহেবনগর এলাকার মৎস্য চাষি ও কৃষকদের মাঝে হাহাকার নেমে এসেছে। ঢলের পানি উপচে পড়ায় এলাকার বহু মৎস্য চাষির পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি তলিয়ে গিয়ে কৃষকের কষ্টের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া খালের তীব্র স্রোতে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক পরিবার বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং এলাকার কর্দমাক্ত সড়কগুলো মানুষের চলাচলকে একেবারেই বিপন্ন করে তুলেছে। সব হারিয়ে দিশেহারা ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের জরুরি সহায়তা কামনা করেছেন।
সময়ের আলো/আরবিএন