নাটোরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ২ চোর জলাশয়ে ঝাঁপ দিয়ে কচুরিপানার নিচে দশ ঘণ্টা লুকিয়ে থাকে। কিন্তু ততক্ষণে এলাকাবাসী টের পেয়ে গেলে, তাদের ধরতে জলাশয়টি ঘিরে ফেলেন। তারপর তাদের আটক করে পুলিশে দেয় এলাকাবাসী।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে জেলার সিংড়া থানার চৌগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সিংড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটক ২ চোর হলেন- ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানার বেতাকুড়-আতারামপুর এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান (৪২) এবং জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানার মইপুর গোপালপুর এলাকার ফেরদৌস (২৬)।
নওগাঁ জেলার রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল জানান, গত ১০ জুলাই ওই থানা এলাকায় গরু চুরির মামলা হয়। ওই মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে নওগাঁর আত্রাই থানার কাশিয়াড়ী এলাকার আসলাম দেওয়ান (৪৩)কে আটক করে র্যাব।
এরপর তার দেওয়া তথ্যে বুধবার ভোর ৫টার দিকে সিংড়া চৌগ্রাম এলাকায় নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে চেকপোস্ট বসায় রানীনগর থানার পুলিশ। ওই সময় আসলাম দেওয়ানের গ্রুপের আন্তজেলা গরুচোর চক্রের ৫/৬ জন সদস্য একটি মিনি ট্রাকে পৌঁছে। কিছুক্ষণ পর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চৌগ্রাম-কালিগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। তখন চোর চক্রের ওই ২ জন রাস্তার পাশের কচুরিপানাপূর্ণ খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে লুকিয়ে যায়।
স্থানীয় যুবক রাকিব বলেন, ‘ওরা কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এলাকাবাসী খাল ঘিরে রাখায় শেষ পর্যন্ত বের হয়ে আসতে বাধ্য হয়।’
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
তিনি বলেন, ‘আটক ২ জনকে প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পরে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।’
সিংড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা জানান, তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় মামলা হবে। আবার রানীনগর থানা পুলিশও তাদের শ্যেন অ্যারেস্ট দেখাবেন। বৃহস্পতিবার ওই চোরদের আদালতে চালান দেওয়া হবে।
সময়ের আলো/মহু