ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে পিছিয়ে পড়েও শেষ দিকে মেসির ম্যাজিক্যাল শোতে জয় পায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে প্রশংসায় ভাসছেন মেসি ও তার দল। ইউরোপ থেকে দক্ষিণ আমেরিকা। বিশ্বের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলো লিখেছে, এটি শুধু একটি জয় নয় বরং একটি প্রজন্মের ফুটবল দর্শকদের জন্য আরেকটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কেউ বলছে, ‘মেসির শেষ নাচ এখনও শেষ হয়নি’, আবার কেউ লিখেছে, ‘আর্জেন্টিনা এখন ইতিহাসের প্রান্তে।’
ইংল্যান্ডের বিবিসি স্পোর্টস লিখেছে, ইংল্যান্ডের ৬০ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠার স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে আর্জেন্টিনা। তারা লিখেছে, আর্জেন্টিনার কাছে হৃদয়বিদারক হারে ইংল্যান্ডের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। দ্য গার্ডিয়ান বলছে, ম্যাচের শেষের দিকে আর্জেন্টিনার চাপই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়। মেসির নেতৃত্বে থ্রি-লায়ন্সের রক্ষণ ভেঙে পড়ে।
আর্জেন্টিনার সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক ওলি জয়ের পর দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেছে। তাদের প্রতিবেদনের মূল বার্তা- আর্জেন্টিনা কখনো হাল ছাড়ে না। শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফাইনালে উঠাকে তারা এই দলের চরিত্রের প্রতিচ্ছবি হিসেবে তুলে ধরেছে। নকআউট পর্বের প্রায় প্রতিটি ম্যাচই আর্জেন্টিনা শেষ মুহূর্তে গিয়ে প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াওসি ম্যাচ শেষে মেসির বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শিরোনাম করেছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাটা কখনোই সাধারণ ম্যাচ নয় প্রতিবেদনে বলা হয়, মেসির দুটি অ্যাসিস্ট এবং নেতৃত্বই আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলেছে। তারা ম্যাচ শেষে এফএ-এর সভাপতি মেসি, চিকি তাপিয়ার ছবি দিয়ে লিখেছে, কথা দিলে কথা রাখেন। ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লে’কিপ বলছে, ওরা আবা র করে দেখাল। তারা লিখছে, আর্জেন্টিনা আরেকটি অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। ইতালির সংবাদমাধ্যম কোরিয়ারে ডেলা সেরা লিখেছে, আর্জেন্টিনা কখনো হার মানে না।
স্পেনিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মার্কা, ম্যাচে মেসি ও বেলিংহামের তর্কের ছবি দিয়ে বলছে, মেসির সঙ্গে তর্ক থেকে বারকোকে চড়। বিতর্কের কেন্দ্রে বেলিংহাম কী বলছে জুড। আরেক নিউজে তারা মেসি এবং লামিন ইয়ামালের গোসল করানোর ছবি দিয়ে লিখেছে, লিওনেল মেসি কি সত্যিই শিশু লামিন ইয়ামালকে গোসল করিয়েছিলেন? বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ভাইরাল সেই ছবির নেপথ্যের গল্প। প্রায় ২০ বছর পর, সেই শিশু লামিন ইয়ামাল ও লিওনেল মেসি এবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে। ৩৯ বছর বয়সেও মেসি যেভাবে খেলেছে আর তার দলকে সহায়তা করেছে সেই চিত্রই ফুটে উঠেছে বিশ্বমিডিয়ার শিরোনামে।
ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন কোচ দলের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমাদের দেশ, আমাদের মানুষের জন্য এটা অসাধারণ এক আনন্দের মুহূর্ত। সেদিনও বলেছিলাম, এই দল আমাকে প্রতিনিয়ত বিস্মিত করে চলেছে। খেলোয়াড়দের প্রশংসা করে স্কালোনি আরও বলেন, আমরা সত্যিই অনন্য। এই ছেলেরাই আমাদের ম্যাচটি জিতিয়েছে।
ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল বলেন, আমাদের প্রতিপক্ষ অত্যন্ত শক্তিশালী। আমরা চেষ্টা করেছি, শেষ পর্যন্ত পারিনি। কিন্তু কোনো অনুশোচনা নেই। হারের পর ইংলিশ কাপ্তান হ্যারি কেইন মেসির প্রশংসা করে বলেন, আমরা এমন একজনের সঙ্গে খেলেছি যে, সর্বকালের সেরা ফুটবলার। তিনি যোগ করে বলেন, মেসির সঙ্গে খেলতে পারাটাই আমাদের জন্য বড় পাওয়া।
ম্যাচ শুরুর আগে যেমন ফকল্যান্ড যুদ্ধের তক্ত স্মৃতির ইতিহাস সামনে আসে ঠিক তেমনি সেমিফাইনাল জিতে উদযাপনের সময় ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’ ব্যানার নিয়ে মাঠে উল্লাস করে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা। মাঠে এই ব্যানার নিয়ে উদযাপন ভালোভাবে নেয়নি ইংল্যান্ড। ইতোমধ্যে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে অভিযোগও দিয়েছে তারা।
সময়ের আলো/আআ