বাস্কেটবল কোর্ট ছেড়ে ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

আজ ফুটবলবিশ্বে তিনি পরিচিত ‘এল তোরো’ অর্থাৎ ‘ষাঁড়’ নামে। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের সঙ্গে নিরন্তর লড়াই, গোলের সামনে দুর্দান্ত উপস্থিতি আর শেষ

2026-07-17T04:12:31+00:00
2026-07-17T04:12:31+00:00
 
  শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬,
২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
খেলা
বাস্কেটবল কোর্ট ছেড়ে ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:১২ এএম 
লাউতারো মার্টিনেজ। ছবি : সংগৃহীত
আজ ফুটবলবিশ্বে তিনি পরিচিত ‘এল তোরো’ অর্থাৎ ‘ষাঁড়’ নামে। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের সঙ্গে নিরন্তর লড়াই, গোলের সামনে দুর্দান্ত উপস্থিতি আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হার না মানা মানসিকতার জন্যই এই নামটি তার সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। অথচ এই আগ্রাসী স্ট্রাইকারের শুরুর গল্প ছিল একেবারেই সাধারণ। আর্জেন্টিনার বাহিয়া ব্লাঙ্কার একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা লাওতারো মার্টিনেজের শৈশব কেটেছে সীমিত সামর্থ্য, কঠোর পরিশ্রম আর বড় স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে।

১৯৯৭ সালের ২২ আগস্ট জন্ম নেওয়া লাওতারোর বাবা মারিও মার্টিনেজ ছিলেন স্থানীয় ফুটবলার। পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে না পারলেও ছেলের মধ্যে সেই স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছিলেন তিনি। মা কারিনা সীমিত আয়ের সংসার সামলেছেন, আর পরিবারের ত্যাগই লাওতারোর পথচলার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ওঠে।

শৈশবে ফুটবলের পাশাপাশি বাস্কেটবলেও আগ্রহ ছিল তার। একটা সময়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন ফুটবল নাকি বাস্কেটবল। কোনটাকে বেছে নেবেন তার ক্যারিয়ারে। তবে বাবার উৎসাহে শেষ পর্যন্ত ফুটবলকেই নিজের ভবিষ্যৎ হিসেবে বেছে নেন। আর্থিক সংকটের কারণে সবসময় নতুন বুট বা আধুনিক সরঞ্জাম জোটেনি। অনেক সময় পুরোনো বুট পরেই অনুশীলনে নেমেছেন। কিন্তু অভাব তাকে থামাতে পারেনি, বরং আরও পরিশ্রমী করে তুলেছে।

২০১৮ সালে ইতালির ইন্টার মিলানে যোগ দিয়ে শুরু হয় নতুন অধ্যায়। শুরুটা সহজ ছিল না। নতুন দেশ, নতুন সংস্কৃতি আর ভিন্ন ধরনের ফুটবলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লেগেছে। তবে কঠোর পরিশ্রমে তিনি ধীরে ধীরে ইন্টারের আক্রমণের প্রাণভোমরায় পরিণত হন। আন্তোনিও কন্তের অধীনে রোমেলু লুকাকুর সঙ্গে তার জুটি ছিল ইউরোপের অন্যতম সফল আক্রমণভাগ। পরে অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও ওঠে তার হাতে।

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়েছে লাওতারোকে। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হওয়ার পর ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকায় নিজের সেরাটা দেখান তিনি। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং প্রমাণ করেন তিনি শুধু মেসির সতীর্থ নন, দলের অন্যতম বড় ম্যাচজয়ী ফুটবলারও।

সেই ধারাবাহিকতাই তিনি ধরে রেখেছেন ২০২৬ বিশ্বকাপে। টুর্নামেন্টের শুরুটা খুব একটা ভালো না হলেও নকআউট পর্বে হয়ে উঠেন লিওনেল স্কালোনির অন্যতম নির্ভরযোগ্য অস্ত্র। মিসরের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে শেষ দিকে দুর্দান্ত এক অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এরপর সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি নেমে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে আর্জেন্টিনাকে সেমিফাইনালে তোলেন। আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আবারও বদলি হিসেবে নেমে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করে দলকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে দেন। বড় মঞ্চে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অবদান রেখে লাওতারো আবারও প্রমাণ করেছেন, তিনি শুধু একজন গোলদাতা নন, প্রয়োজনে দলের ত্রাণকর্তাও।

আজ লাওতারো মার্টিনেজ শুধু একজন সফল গোলদাতা নন, তিনি সংগ্রাম থেকে উঠে আসা এক অনুপ্রেরণার নাম। বাহিয়া ব্লাঙ্কার ধুলোবালি মাখা মাঠ থেকে শুরু হওয়া তার যাত্রা পৌঁছেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে। তার গল্প মনে করিয়ে দেয়, প্রতিভা পথ দেখায় ঠিকই, কিন্তু স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয় কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং পরিবারের নিঃস্বার্থ ত্যাগ।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বদলি হিসেবে নেমে জয়সূচক গোল করার পর যেন সেই পুরো পথচলাই ফিরে আসে লাউতারোর চোখে।

ম্যাচ শেষে আবেগে আপ্লুত এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড বলেন, বাবা আমার জন্য প্রথম যেদিন জুতা কিনে এনেছিল, আমি এই গোলেরই স্বপ্ন দেখেছিলাম। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পিছিয়ে থেকে জয়সূচক গোল। এর চেয়ে বিশেষ মুহূর্ত আর কী হতে পারে? সেই কয়েকটি বাক্যই যেন তার জীবনসংগ্রামের সবচেয়ে সুন্দর সারাংশ। বাহিয়া ব্লাঙ্কার এক সাধারণ পরিবারের ছেলেটি, যার স্বপ্নের শুরু হয়েছিল বাবার কিনে দেওয়া প্রথম জোড়া বুট থেকে, আজ সেই স্বপ্নই বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস হয়ে ধরা দিল।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   বাস্কেটবল  কোর্ট  ফুটবল  বিশ্বকাপ  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: