‘জয়টা দিয়েগোর জন্য উপহার’

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

আরেকটি শ্বাসরুদ্ধকর জয়। আরেকটি স্মরণীয় রাত। আর সেই রাতের শেষে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গেছে আর্জেন্টিনা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে যেন

2026-07-17T03:51:03+00:00
2026-07-17T03:51:03+00:00
 
  শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬,
২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
খেলা
‘জয়টা দিয়েগোর জন্য উপহার’
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫১ এএম 
দিয়েগো ম্যারাডোনা ও মেসি। ছবি : সংগৃহীত
আরেকটি শ্বাসরুদ্ধকর জয়। আরেকটি স্মরণীয় রাত। আর সেই রাতের শেষে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গেছে আর্জেন্টিনা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে যেন একই সুতোয় গাঁথা হয়ে গেল দুটি প্রজন্ম- ১৯৮৬-এর দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা আর ২০২৬-এর লিওনেল মেসি। চার দশক আগে যে স্বপ্নের শুরু করেছিলেন ম্যারাডোনা, আজ সেই স্বপ্নের ভার বহন করছেন মেসি।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালকে ঘিরে ম্যাচের আগেই আবেগ ছিল তুঙ্গে। কারণ এই প্রতিপক্ষের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ শুধু দুটি গোল ছিল না, ছিল একটি জাতির আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার গল্প। তাই নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের কাছে ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি অতটা ব্যক্তিগত না হলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ মানেই আর্জেন্টিনার কাছে অন্যরকম এক আবেগ।

ম্যাচে গোলের দেখা না পেলেও আক্রমণের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ছিলেন লিওনেল মেসি। তার সৃষ্ট সুযোগ থেকেই এসেছে জয়সূচক দুটি গোল। মাঠে নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা এবং শান্ত উপস্থিতি দিয়ে আরও একবার প্রমাণ করলেন, গোল করাই একজন মহাতারকার একমাত্র পরিচয় নয়; বড় ম্যাচে দলকে জেতানোর নামও লিওনেল মেসি।

জয়ের পর আর্জেন্টিনা শিবিরজুড়ে ছিল আবেগের বিস্ফোরণ। সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনের ফাঁকেই উঠে আসে ম্যারাডোনার নাম। বর্তমান প্রজন্মের অনেকের কাছেই তিনি কেবল একজন কিংবদন্তি নন, বরং আর্জেন্টিনার ফুটবল আত্মার প্রতীক। তাই এই জয়কে অনেকেই দেখছেন দিয়েগোর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে।

১৯৮৬ সালের ২২ জুন মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনা যে জাদু দেখিয়েছিলেন তা আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অধ্যায়। প্রথমে বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’, এরপর পাঁচজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে করা অবিশ্বাস্য গোল দুটি মুহূর্তই তাকে অমরত্ব দিয়েছে। সেই স্মৃতি আজও আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতির অংশ হয়ে আছে।

এবারের সেমিফাইনালেও সেই ইতিহাস যেন নতুন করে ফিরে এসেছে। মাঠে নামার আগে গ্যালারিতে শোনা গেছে ম্যারাডোনার নামে গান। সমর্থকদের কণ্ঠে বারবার ধ্বনিত হয়েছে দিয়েগো, মালভিনাস আর মেসির স্বপ্নপূরণের গল্প। স্টেডিয়ামের আবহ জানিয়ে দিচ্ছিল, এটি শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ নয়; এটি ইতিহাস, আবেগ আর গৌরবের লড়াই। ম্যাচ শেষে মেসি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয়কে ম্যারাডনাকে উৎসর্গ করেন।

মেসি বলেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই, দিয়েগো ওপরে থেকে এটা খুব উপভোগ করছেন। কারণ আজকের দিন তার জন্য খুবই বিশেষ একটি দিন। তাকে এই আনন্দ দিতে পারা এবং ওপরে থেকে তার যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে উপভোগ করতে পারা (দারুণ একটি ব্যাপার)। তাকে এটা উপভোগ করতে দিন, কারণ এটা তার জন্য একটা উপহারও।’

এখন সামনে শেষ পরীক্ষা। বিশ্বকাপের ফাইনাল। আর সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে মেসির সামনে রয়েছে আরও একটি ইতিহাস লেখার সুযোগ। নিজের ক্যারিয়ারে আরেকটি বিশ্বকাপ জিতে তিনি শুধু ট্রফির সংখ্যা বাড়াবেন না, বরং আর্জেন্টাইন ফুটবলের দুই মহাকাব্যিক অধ্যায় ম্যারাডোনা ও মেসিকে একই স্বর্ণসূত্রে বেঁধে দেবেন।

চার দশক আগে দিয়েগো যে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন, আজ সেই উত্তরাধিকার বহন করছেন লিওনেল মেসি। কোটি কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থক বিশ্বাস করছেন, আর মাত্র একটি ম্যাচ। এরপরই হয়তো আবারও বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি উঠবে আকাশি-সাদা জার্সিধারী অধিনায়কের হাতে। তখন ইতিহাসের পাতায় নতুন করে লেখা হবে একটি নাম লিওনেল মেসি, যিনি ম্যারাডোনার স্বপ্নকে নতুন প্রজন্মের বাস্তবতায় রূপ দিয়েছেন।

সময়ের আলো/আআ



  বিষয়:   জয়  দিয়েগো  উপহার  আর্জেন্টিনা  বিশ্বকাপ  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: