নজরুলের এমপি পদ থাকবে কি না সিদ্ধান্ত নেবে ইসি

রফিকুল ইসলাম সবুজ

রাজনীতি

আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার পর নৈতিক স্খলনের কারণে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে

2026-07-23T00:42:59+00:00
2026-07-23T00:42:59+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬,
৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
রাজনীতি
নজরুলের এমপি পদ থাকবে কি না সিদ্ধান্ত নেবে ইসি
রফিকুল ইসলাম সবুজ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪২ এএম 
গাজী নজরুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত
আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার পর নৈতিক স্খলনের কারণে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তাকে বহিষ্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে দলটি। ফলে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার হওয়ায় নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। 

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বলা হয়েছে, ‘নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) ওই দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তার আসন শূন্য হইবে’। কিন্তু জামায়াতের নজরুল ইসলাম দল থেকে পদত্যাগ করেননি বা দলের বিপক্ষে ভোটও দেননি। তাই দল তাকে বহিষ্কার করার কারণে তার সংসদ সদস্য পদ যাবে কি
না সে বিষয়ে সংবিধানে কোনো ব্যাখ্যা না থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দল বহিষ্কার করলে সংসদ সদস্য পদ যাবে কি না সে বিষয়ে সংবিধানে পরিষ্কার কিছু বলা না থাকলেও এর আগে নজির রয়েছে কোনো সংসদ সদস্যের সংসদে তার সদস্য পদ থাকা না থাকা প্রশ্নে বিরোধ উত্থাপিত হলে এবং দল থেকে বিষয়টি স্পিকারকে অবহিত করলে স্পিকার তা নিষ্পত্তির জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দেবেন। তখন প্রধান নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্বে কমিশন একটি শুনানির আয়োজন করবে। এতে বিরোধ উত্থাপনকারী এবং যার বিরুদ্ধে বিরোধ উত্থাপন করা হয়েছে, উভয়পক্ষকেই ডাকা হবে। তারা নিজেদের আইনজীবীসহ শুনানিতে অংশ নিয়ে স্ব স্ব বক্তব্য তুলে ধরবেন। সবকিছু পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেবে ইসি। সংবিধানের ৬৬ (৪) অনুচ্ছেদে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ইসির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। পরে কমিশনের সিদ্ধান্ত স্পিকারকে লিখিত জানানোর পর স্পিকার সংসদকে বিষয়টি অবহিত করবেন।

সংবিধানের ৬৬ (৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে কোনো সংসদ-সদস্য তাহার নির্বাচনের পর এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত অযোগ্যতার অধীন হইয়াছেন কি না কিংবা এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হইবে কি না, সে সম্পর্কে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের নিকট প্রেরিত হইবে এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে। 


সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, ২০০০ সালে সংবিধানের ৬৬ (৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রথমবারের মতো এমন বিষয়ে রায় দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সে সময় বিএনপি থেকে নির্বাচিত কিশোরগঞ্জ-২ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামানকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এরপর তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণার জন্য স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীকে অনুরোধ করেছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ অ্যাডভোকেট খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে অনুরোধ জানিয়ে ছিলেন স্পিকার। এরপর শুনানি করেই আখতারুজ্জামানের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত দিয়েছিল ইসি।

একইভাবে ২০১৫ সালে টাঙ্গাইল-৪ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য ও ডাক, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আওয়ামী লীগ তাকে দল থেকে বহিষ্কার করার পর তার সংসদ সদস্য আসন শূন্য ঘোষণার জন্য দলটির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্পিকারকে অবহিত করেছিলেন। তখন স্পিকার সিইসিকে বিরোধটি নিষ্পত্তির জন্য চিঠি দেন। পরবর্তী সময়ে কমিশন দুপক্ষকেই ডেকে শুনানি করে। তবে ইসির সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগেই স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন লতিফ সিদ্দিকী।

সংসদ সদস্য (বিরোধ নিষ্পত্তি) আইন ১৯৮০ অনুযায়ী, স্পিকার কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য ঘোষণার কোনো বিতর্ক সম্পর্কিত কোনো বিবৃতি ইসিকে পাঠালে এর ১৪ (চৌদ্দ) দিনের মধ্যে তা বিরোধ উপস্থাপনকারী ও যার বিরুদ্ধে বিরোধ উপস্থাপন হয়েছে, উভয়পক্ষকে জানাতে হয় এবং তাদের কোনো বক্তব্য থাকলে তা ইসিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দিতে হয়। এরপর ইসিকে দুপক্ষের শুনানি করে রায় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে আইনে।

সংসদ সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, যদি কোনো দল কোন এমপিকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করে এবং জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে তার এমপি পদ রহিত করার জন্য আবেদন করে তা হলে এমপি পদ বাতিল হওয়ার রেওয়াজ আছে। আর কোনো দল যদি শুধু সাংগঠিক পদ বাতিল করে এবং স্পিকারের কাছে এমপি পদ বাতিলের আবেদন না করে তা হলে এমপি পদ বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। উদাহরণ হিসেবে তারা জানান, নবম জাতীয় সংসদের জাতীয় পার্টির এমপি সাতক্ষীরা-৪ আসনের এইচএম গোলাম রেজাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও স্পিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে না জানানোর কারণে তার সংসদ সদস্য পদ বহাল ছিল।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) ওই দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না’। তা ছাড়া কোনো এমপির বিরুদ্ধে নৈতিকস্খলনের দায়ে যদি মামলা হয় এবং সেই মামলায় যদি তিনি কমপক্ষে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত হন তা হলেও তার সংসদ সদস্য পদ চলে যাবে।  

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মূল পরিচয় ও আইনগত ভিত্তি তৈরি হয় দলগত কাঠামোর ওপর ভর করে। তাই দল যদি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সদস্যকে বহিষ্কার করে এবং তার মনোনয়ন প্রত্যাহার বা বাতিল করে, তবে তার আসন শূন্য হওয়াটাই স্বাভাবিক আইনগত প্রক্রিয়া। তবে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় বহিষ্কারসংক্রান্ত কোনো চিঠি এখনও নির্বাচন কমিশনের হাতে পৌঁছায়নি বলে জানান তিনি। 

নির্বাচন কমিশনার বলেন, অফিসিয়াল কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন আইন, বিধিমালা ও সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/আরবিএন 


  বিষয়:   গাজী নজরুল ইসলাম  জামায়াত 


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: