রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ইপিসিসি চুক্তি, অর্থায়ন কাঠামো এবং অর্থছাড়ের প্রক্রিয়া নিয়ে সাম্প্রতিক সমালোচনা ও সংবাদকে বিভ্রান্তিকর দাবি করে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান বলেছেন, প্রকল্পটির চুক্তিগত ও প্রযুক্তিগত কাঠামো না বুঝে বিচ্ছিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করলে প্রকল্পের প্রকৃত চিত্র ফুটে ওঠে না।
এক লিখিত ব্যাখ্যায় ড. জাহেদুল হাসান জানান, রূপপুর প্রকল্প বাংলাদেশ ও রাশিয়ান সরকারের মধ্যবর্তী আন্তঃসরকারি চুক্তির আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এখানে ‘ইপিসিসি’ কোনো নির্দিষ্ট যন্ত্রপাতি কেনাকাটার চুক্তি নয়, বরং এটি পুরো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নকশা, নির্মাণ, পরীক্ষা, কমিশনিং ও পরিচালনার হস্তান্তরের একটি সামগ্রিক চুক্তি। ফলে চুক্তিতে কোনো নির্দিষ্ট যন্ত্রপাতি বা কাজের জন্য আলাদা মূল্য নির্ধারণ না করে পুরো বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য একটি নির্ধারিত চুক্তি মূল্য ধরা হয়েছে। বিভিন্ন ধাপে সম্পন্ন কাজ অনুযায়ী যে ‘মাইলস্টোন পেমেন্ট' দেওয়া হয়, সেটিকে যন্ত্রপাতির একক দাম হিসেবে ব্যাখ্যা করা ভুল।
অর্থছাড় প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, চুক্তির অর্জিত মাইলস্টোন যাচাই-বাছাইয়ের পর ডকুমেন্ট স্বাক্ষরিত হলেই কেবল তা রাষ্ট্রীয় ঋণের অর্থছাড়ের উপযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন নিজ উদ্যোগে সরাসরি ঠিকাদারকে টাকা দেয় না। তাছাড়া প্রকল্পের ১০ শতাংশ খরচ বাংলাদেশ এবং ৯০ শতাংশ খরচ রাশিয়ান সরকারের রাষ্ট্রীয় ঋণের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রূপপুরের প্রযুক্তিগত জটিলতা, নিরাপত্তা ও আন্তঃসরকারি বাধ্যবাধকতার কারণেই একক উৎস থেকে এই আন্তর্জাতিক প্রকল্প বাস্তবায়নের আইনগত ভিত্তি রয়েছে। দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এনপিসিবিএল এমডি।
সময়ের আলো/জেডি