ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ইতি টানতে যাচ্ছেন বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় রদ্রি। নতুন কোচ এনজো মারেস্কা তাকে দলে রাখার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। ব্যক্তিগত শর্তে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছেন স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার। এখন দুই ক্লাবের মধ্যে শুধু ট্রান্সফার ফি নিয়ে সমঝোতা হওয়াই বাকি।
বিশ্বকাপে স্পেনের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা রদ্রিকে দলে ভেড়াতে আগ্রহ দেখিয়েছিল পিএসজি ও বার্সেলোনাও। এমনকি দুবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী ফরাসি ক্লাব পিএসজি ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে যোগাযোগও করেছিল বলে জানা যায়। তবে শুরুতে তাকে ছাড়তে রাজি ছিল না সিটি। পেপ গার্দিওলার উত্তরসূরি এনজো মারেস্কা মাঝমাঠের পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রদ্রিকেই রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু খেলোয়াড়ের অনাগ্রহে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ৩০ বছর বয়সী রদ্রির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আর মাত্র এক বছর। সে কারণে গত এপ্রিলেই তাকে নতুন চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তাতে সাড়া দেননি তিনি। রদ্রির ইচ্ছা নিজ শহর মাদ্রিদে ফিরে যাওয়া। ২০১৯ সালে ম্যানসিটিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি এক মৌসুম খেলেছিলেন অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে। পরিবারের কাছাকাছি থাকার লক্ষ্যেই এবার স্পেনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
ইংলিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল জানিয়েছে, সপ্তাহের শুরুতেই রদ্রির এজেন্ট রিয়াল মাদ্রিদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে ব্যক্তিগত চুক্তির সব বিষয় চূড়ান্ত করেছেন।
এখন বাকি রয়েছে দুই ক্লাবের মধ্যে ট্রান্সফার ফির সমঝোতা। ধারণা করা হচ্ছে, ম্যানচেস্টার সিটি বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করবে। তবে রদ্রির চুক্তির মেয়াদ মাত্র এক বছর থাকায় এবং তিনি নিজেও ক্লাব ছাড়তে আগ্রহী হওয়ায় আলোচনায় সিটির অবস্থান কিছুটা দুর্বল। এদিকে ক্লাবটি ইতোমধ্যে ৮৫ মিলিয়ন পাউন্ডে মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে দলে ভিড়িয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বকাপে আলোড়ন তোলা তরুণ মরোক্কান মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দিকে দলে নেওয়ার কাজও অনেক দূর এগিয়েছে। ফলে রদ্রিকে বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।
রিয়াল মাদ্রিদে দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নেওয়া হোসে মরিনহোর আগ্রহেই রদ্রিকে দলে আনার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। পর্তুগিজ এই কোচ মাঝমাঠে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব হিসেবে রদ্রিকে দেখতে চান। তার কৌশলের সঙ্গে রদ্রি দারুণভাবে মানিয়ে যাবেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
রদ্রির সম্ভাব্য আগমনের ফলে রিয়ালের বর্তমান মিডফিল্ডেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সে ক্ষেত্রে ফরাসি মিডফিল্ডার এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে ছেড়ে দিতে পারে ক্লাবটি। আরেক ফরাসি মিডফিল্ডার অরেলিয়েন চুয়ামেনিও নিয়মিত একাদশে জায়গা হারাতে পারেন। ফলে তাদের দলে ভেড়াতে প্রিমিয়ার লিগের কয়েকটি ক্লাব আগ্রহ নিয়ে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।
সময়ের আলো/আরবিএন